এ দিন ভবানীপুরে বিজেপি-র কর্মিসভায় যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ এসআইআর-এর শুরু থেকেই রাজ্যের বিজেপি নেতাদের দাবি ছিল, রাজ্যে অন্তত ১ কোটি ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে৷ এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় এখনও পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৬৩ লক্ষের কিছু বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে৷ এখনও বিচারাধীন রয়েছে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম৷ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে শুভেন্দু এ দিন বলেন, ‘৬০ লক্ষের মধ্যে কত নাম বাদ গিয়েছে তা নিয়ে আমি আগ বাড়িয়ে কেন কিছু বলতে যাবো? তবে আমার কাছে গোপন খবর আছে, বিচার বিভাগ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে৷’
advertisement
এ দিনের কর্মিসভায় যে কোনও মূল্যে ভবানীপুর দখল করতে হবে বলে বিজেপি কর্মীদের কার্যত টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা৷ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই ভবানীপুর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মাটি। মা কালীর আশীর্বাদ ধন্য এই জমি বিজেপির । ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে তথাগত এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ভয়ানক ছাপ্পা মেরেও মাত্র ৮ হাজার ভোটের ফারাক ছিল৷ চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী মোট বাদ গিয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার ভোটার। মুখ্যমন্ত্রী ভুয়ো ভোটারের ভোটে জিতেছেন। অমীমাংসিত ভোটার আছে এখনও এই কেন্দ্রে ১৪ হাজার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোল্ড আউট হয়ে গিয়েছেন।’
বিজেপি কর্মীদের আশ্বস্ত করে বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, ‘বাকি পুলিশ, কালীঘাট, ভবানীপুর থানার বিষয়গুলি শুভেন্দু অধিকারীর উপর ছেড়ে দিন। আমি সিপিএমকে উপড়ে ফেলার কাজ করেছি। একুশে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছি। আর এখানে তো চিত্র ভয়ঙ্কর। ১ লাখ ২৮ হাজার হিন্দু। কী হবে এবার। হারাতে হবে কোনও কথা জানি না। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আমাদের চাই৷ আজকের এই মিটিংয়ে নিশ্চয় আইপ্যাক আর পুলিশের একজনকে ঢুকিয়ে রেখেছে। রেকর্ড করে নিয়ে গিয়ে বলবেন৷ দম থাকলে ভবানীপুরে লড়বেন, অন্য কোথাও পালাবেন না । দোলের দিন আসবো, ভবানীপুরে দেখা হবে।’
শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য দাবি করেছেন, ‘ভবানীপুর কেন্দ্রকে বিজেপি বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে না৷ তিনি বলেন, ভবানীপুর আলাদা কিছু নয়৷ কলকাতার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আমাদের কর্মিসভা হচ্ছে৷ যেখানে বিপ্লব দেব কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাচ্ছেন। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের দায়িত্ব দল আমাকে দিয়েছে, তাই আমি এখানে এসেছি৷ কর্মীদের বার্তা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে। ভবানীপুর আমরা আগামী নির্বাচনে জিতব।’
