শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগটি বলেন, ‘‘আপনারা অফিস তৈরি করছেন, আপনারা নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছেন। তিনি যদি সঙ্গে সঙ্গে রিসিট দিয়ে দিতে পারেন।’’ ট্রাইব্যুনালে বিচারের প্রক্রিয়া কেমন হবে তা স্থির করতে নতুন নির্দেশ দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি৷ বলেন, ‘‘আমরা সিনিয়র অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করছি। তাঁরা ঠিক করবেন প্রসিডিওর কী হবে৷’’
advertisement
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আপিল করেন, ‘‘সবাই যেন সমান সুযোগ পান। সওয়ালের।’’ বিচারপতি বাগচি আশ্বস্ত করেন আইনজীবীকে৷
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল নিজ্দের মতো প্রসিডিওর ঠিক করতে পারবেন। তাঁরা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ফেয়ার অপরচুনিটি দেবেন। ব্যক্তিগত হিয়ারিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে আমাদের কাছে— ইউনিফর্মিটি আনার জন্য একটি প্রসিডিওর অ্যাডজুডিকেশনের আগে তৈরি করা দরকার। তিনজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং বিচারকদের নিয়ে কমিটি গঠন করার অনুরোধ করা হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে। আগামিকালের মধ্যে কমিটি পরশুর মধ্যে তাঁদের প্রসিডিওর ঠিক করুন যাতে দ্রুততার সঙ্গে আবেদন গ্রহণ করতে পারে ট্রাইবুনাল। ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং বিচারপতিদের অ্যাকাউন্ট নম্বর শেয়ার করতে বলা হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে। যাতে অনারারিয়াম দ্রুত দিতে পারে কমিশন। অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও রিসিট দিতে হবে৷’’
এদিনের শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচি বলেন, ‘‘আমরা নতুন নথি গ্রহণের ঝুঁকি কী জানি। এই পরিস্থিতিতে যদি আমরা নথি নেওয়ায় বাধা দিই, তাহলে সেটা চ্যালেন্জ হবে। তাই আমরা অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ বিচারপতিদের উপর দায়িত্ব ছাড়ছি৷ কীভাবে ট্রাইবুনাল ফাংশন করবে তার প্রসিডিওর ঠিক করতে৷ ১৯৯০-১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ২০২৪-২৫ সালে গণ জন্ম শংসাপত্র জারি করেছেন আপনারা। সেটা তো সন্দেহজনক মনে হবেই৷ যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের প্রথম বক্তব্য হল তাঁদের নাম কেন বাদ তার কারণ জানা নেই। আমরা তো সেই জন্যই তো বলেছি কারণ জানানোর জন্য।’’
মমতার আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতকে জানান, ‘‘৪৪ লাখ ভোটারের নথি দেখাচ্ছে ৫৫% ইনক্লুড হয়েছে। ৪৫% বাদ গিয়েছে। বাদ যাওয়ার হার খুব বড়। ইতিমধ্যেই ৭ লক্ষ্রও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এখনও ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করেনি সেভাবে। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে আবেদনের নথি জমা দেওয়ার জন্য। প্রথম দফার ভোটের নমিনেশন জমার শেষ দিন ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ৯ এপ্রিল। আমরা অনুরোধ করছি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইবুনাল তাঁদের নির্দেশ শেষ করুক এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হোক। নির্বাচনের ৫ দিন আগে। একই সঙ্গে আমরা আবেদন করছি, ম্যাপড ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হোক৷’’
উত্তরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি জানান, ‘‘ আমরা অ্যাপিলেট কোর্টের উপর চাপ দিলে আবার হেস্টি একসারসাইজ হয়ে যাবে। আমরা সেটার পক্ষে নই। আমরা মনে করি এসআইআরের নিরপেক্ষ অ্যাডজুডিকেশন হওয়া উচিত। আমরা কৃতজ্ঞ সব জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছে, যে তাঁরা এত বিপুল অ্যাডজুডিকেশন শেষ করেছে৷’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘ আমরা বলছি ট্রাইবুনাল অবিলম্বে শুরু হওয়া উচিত।’’
তবে বিচারপতি বাগচি জানান, ‘‘আমরা কোয়ালিফাইং ডেট সরানোর প্রস্তাবের পক্ষে নই। একই সঙ্গে একটা ভেরিফিকেশন হওয়া উচিত। নিয়ম অনুযায়ী, অনেক আগে তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। আমরা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা তৈরির দন্য সেই সময়টি এগিয়েছি। আমরা ট্রাইবুনালের কাজে তড়িঘড়ি করতে পারি না। আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সেটা এক থেকে দু মাস সময় লাগবে। কিন্তু তাঁরা ম্যাপড ছিলেন বলেই তাঁদের অনুমতি দেওয়া যায় না। ’’
