বৃহস্পতিবার নিজেই সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন অভয়ার মা৷ তাঁর দাবি, তিনি নিজেই বিজেপি নেতৃত্বকে ফোন করে তাঁর এই ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন৷ অভয়ার মায়ের দাবি, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য বিজেপি-কেই তাঁরা প্রধান বিকল্প হিসেবে মনে করছেন৷ নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, নিজেদের রাজনৈতিক লাভের জন্যই আন্দোলন করেছিল সিপিআইএম। এরপরই মুখ খুলেছেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ।
advertisement
আরও পড়ুন: পুলিশকর্তাদের পর রাজ্যের ১৩ IAS অফিসার, কমিশনের বদলি করা সেই আমলাদের নতুন দায়িত্ব দিল নবান্ন
‘উনি নিজের মেয়েকে অত্যন্ত মর্মান্তিক অবস্থায় হারিয়েছেন। এভাবে যদি কাউকে তাঁর মেয়েকে হারাতে হয়, জীবনে তাঁরা সেই যন্ত্রনা থেকে মুক্ত হতে পারবেন না। ওঁর কথার কোনও আক্রমণাত্মক উত্তর আমরা কেউ দেব না। কন্যার মৃত্যুতে ব্যথিত পিতা হিসেবে বললে একরকম ছিল, কিন্তু যেহেতু উনি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে বলছেন, তাই যতটুকু উত্তর না দিলে নয়, ততটুকুই শুধু বলছি। উনি যদি বলেন, অভয়ার মৃ্ত্যু-খুন-ধর্ষণের বিচারে আন্দোলনটা রাজনৈতিক ছিল, তাহলে এখন ওঁর বিজেপিতে জয়েন করাটা কি ধর্মকর্ম করার জন্য? উনি কি ক্রিকেট-ফুটবল খেলবেন বলে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন?’
শতরূপের দাবি, ‘রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়াটা ওঁর অধিকার, সেই দলের শিখিয়ে দেওয়া কথা এখন ওঁদের বলতে হবে। এটা খুব স্বাভাবিক, কিন্তু তাতে ওঁদের যন্ত্রণা মিথ্যে হয়ে যায় না। কিন্তু এটাও বলছি যে, নিজের সন্তানের জন্য উনি তো করবেনই। কিন্তু কলতান তো অভয়াকে চিনত না। ওঁকে তো অভয়ার জন্য জেলে থাকতে হয়েছে। গোটা বাংলাজুড়ে আমাদের একের পর এক কর্মীকে জেল খাটতে হয়েছে। এবং পার্টির বাইরেও বহু সাধারণ মানুষ তাঁরাও বিচারের দাবিতে রাত জেগেছেন। কিন্তু ওঁরা এখন ভোটে দাঁড়াচ্ছেন, তার জন্য রাজনীতিতে যোগ দিয়েই এত মানুষের এত আন্দোলনকে অপমান করাটা বোধহয় ঠিক নয়।’
আরও পড়ুন: ৩০ দিনে মোদি ১৪-শাহ ৮ র্যালি! বাংলায় ভোটপ্রচারে ঝড় তুলতে বিজেপির বড় প্ল্যান, কী কী হবে?
একটি টেলিভিশন চ্যানেলে নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য উল্লেখ করে শতরূপের দাবি, ‘অভয়ার মাকে বলতে শুনেছিলাম, শুভেন্দু অধিকারী প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার, তাঁরা তখন রাজি হননি বলে শুভেন্দু অধিকারী যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমাদের মনে আছে, অমিত শাহ-মোদির সভায় দেখা করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। শুভেন্দু অধিকারী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেগুলোও আমরা দেখেছি। ওঁদের যন্ত্রণার প্রতি সহানুভূতি, রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা। তবে হাতজোর করে অনুরোধ করছি, আপনাদের দুঃখে যে কোটি কোটি বাঙালি রাত জেগেছিল, আপনাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য তাঁদের এই আবেগকে অপমান করবেন না।’
