রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে মোট ১২৬টি অতিরিক্ত ইএমইউ স্পেশাল লোকাল ট্রেন চালানো হবে। যেখানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭২টি, সেখানে এবছর প্রতিদিন গড়ে ১৮টি অতিরিক্ত ট্রেন চলবে। নামখানা ও কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশন অভিমুখে ডাউনের দিকে ৫৬টি এবং আপ লাইনে ৭০টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
advertisement
যাত্রী ভিড় নিয়ন্ত্রণে শিয়ালদহ ও কাকদ্বীপ স্টেশনে বড় আকারের হোল্ডিং এরিয়া বা যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছে। এই প্রতীক্ষালয়গুলিতে পানীয় জল, শৌচালয়, বসার ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা থাকবে। শিয়ালদহ স্টেশনের ১৫ ও ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র কাকদ্বীপ ও নামখানা রুটের ট্রেনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ভিড় এড়াতে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে ধাপে ধাপে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করানো হবে এবং একসঙ্গে একটির বেশি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢোকানো হবে না।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এবার অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। শিয়ালদহ, কাকদ্বীপ ও নামখানায় ৪০০-র বেশি আরপিএফ কর্মী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি রেলের অতিরিক্ত ২০০ জন কর্মী স্টেশন ও ট্র্যাক নজরদারিতে থাকবেন। লক্ষ্মীকান্তপুরে একটি স্ট্যান্ডবাই ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য নামখানা ও সোনারপুরে অতিরিক্ত ১২ কোচের ইএমইউ রেক মজুত থাকবে। স্টেশন চত্বরে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি— তিন ভাষায় নিরবচ্ছিন্ন ঘোষণা চলবে এবং একবার প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন করা হবে না, যাতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
বিশেষ ‘গ্যালোপিন’ লোকাল ও স্পেশাল ট্রেনগুলি মূলত বালিগঞ্জ, সোনারপুর, বারুইপুর, লক্ষ্মীকান্তপুর, নিশ্চিন্দপুর, কাকদ্বীপ ও নামখানা স্টেশনে থামবে। কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়া স্পেশাল ট্রেনগুলি কলকাতা ও মাঝেরহাটের মধ্যবর্তী সমস্ত স্টেশনে দাঁড়াবে। যাত্রী সংখ্যা সমানভাবে ভাগ করতে সময়সূচি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনও নির্দিষ্ট সময়ে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে তুষারপাত হলেও দক্ষিণবঙ্গে এসব জেলায় পড়বে গরম, শুক্রবার থেকেই বাড়বে তাপমাত্রা
শিয়ালদহ থেকে নামখানা রুটে রাত ১২টা ০১, ১টা ২৩, ২টা ৫৫, সকাল ৬টা ১৫ ও দুপুর ২টা ৪০-এ স্পেশাল ট্রেন চলবে। কলকাতা স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ৩৫, ৮টা ২৪ ও রাত ৯টা ৩০-এ বিশেষ ট্রেন ছাড়বে। নামখানা থেকে শিয়ালদহ অভিমুখে রাত ১২টা ০৭, ১টা ০৬, ১টা ২৫, ২টা ৫২, সকাল ৯টা ১০, ১১টা ১৮ ও সন্ধ্যা ৬টা ৩৫-এ স্পেশাল ট্রেন চলবে। কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে একটি বিশেষ ট্রেন ছাড়বে দুপুর ২টা ১৬-এ।
শুধু গঙ্গাসাগর রুট নয়, সাধারণ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে রানাঘাট–গেদে শাখাতেও অতিরিক্ত ৩ জোড়া নতুন ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেল, যা সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের স্বস্তি দেবে। অফিসযাত্রীদের জন্যও আলাদা প্রবেশ ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ শিয়ালদহ শাখায় যে বিপুল জনসমাগম হতে চলেছে, তা সামলাতে ‘নিরাপত্তার সঙ্গে সর্বোচ্চ গতিশীলতা’—এই নীতিতেই পুরো অপারেশন সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পূর্ব রেল।
