অভয়ার মায়ের কথায়, “বিচারের লড়াই দিন দিন কঠিন হচ্ছে। তাই মনে হয়েছে ক্ষমতা হাতে পাওয়া জরুরি। সিপিএম যেভাবে এই ইস্যুকে ভোটের ময়দানে ব্যবহার করছে, তাতে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি নিজেই ফোন করে কাল বলেছি যে প্রার্থী হতে চাই।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই সঠিক মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভয়ার বাবাও। তাঁর বক্তব্য, “যারা আন্দোলন করেছে, তারা কেউ আমার মেয়ের বিচারের স্বার্থে আন্দোলন করেনি। নিজেদের স্বার্থে করেছে। বিচার ব্যবস্থা…আমরা যে কী অবস্থায় আছি, কতটা এগিয়েছি, কতটা পিছিয়েছি, এটা কেউ জানে না। যারা আন্দোলনে যুক্ত ছিল, তারা কেউ জানে না। প্রথম থেকেই উদ্দেশ্য খারাপ ছিল ওদের। আমার মেয়ের মৃত্যুকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে।”
advertisement
অভয়ার বাবা আরও বলেন, “৯ অগাস্ট ২০২৪ সালের সন্ধে সাড়ে সাতটায় যে পোস্ট করা হয়েছিল, সেটাকেই ঘুরিয়ে গতকাল পোস্ট করে প্রচার চলছে। মা-বাবা হিসেবে মেয়ের ওই ছবি দেখলে কী দুঃখ, যন্ত্রণা হয়, তা কখনও জানার চেষ্টা করেনি। আজ পর্যন্ত নয়। সেই আন্দোলন করে কী লাভ। এই তৃণমূল সরকারকে যদি পশ্চিমবঙ্গে রেখে দেয় ভোট কাটাকাটির অঙ্কে…৩৪ বছরের বামপন্থীরা চলে গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলকে ক্ষমতায় রাখায় বামপন্থীদের বিরাট ভূমিকা আছে। আমাদের এখানে যিনি লোকসভায় জিতেছেন, বামেরা ভোট কেটেছিল বলেই জিতেছেন। বরানগরে সজল ঘোষ যে হেরেছেন, তাও বামেদের ভোট কাটাকাটির অঙ্কে। তন্ময় ভট্টাচার্য নিজে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন। এই অঙ্কটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বুঝবেন না, মানবেন না। জানি না কী স্বার্থ আছে।”
পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেখানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্মল ঘোষের পুত্র এবং সিপিএমের প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।
এদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। বিরোধীদের তরফে কটাক্ষের সুর শোনা গেলেও, অভয়ার পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সমালোচনায় তারা বিচলিত নয়। তাঁদের মূল লক্ষ্য নারী সুরক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং রাজ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় অভয়ার মায়ের নাম থাকতে পারে বলেও বিজেপি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর, শেষ পর্যন্ত দল কাকে প্রার্থী করে এবং এই আবেগঘন ইস্যু ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।
