আরজি কর দুর্নীতি মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দিল ইডি। ইডি-র বিশেষ আদালতে এই মামলার চার্জশিট পেশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সন্দীপ ঘোষ-এর। তাঁর পাশাপাশি চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরাকেও। একই সঙ্গে সুমন হাজরার মালিকানাধীন হাজরা মেডিক্যালের বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
advertisement
এই প্রথমবার আরজি কর দুর্নীতি মামলায় ইডি চার্জশিট পেশ করল, ফলে তদন্ত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল বলেই মনে করা হচ্ছে। চার্জশিটে আর্থিক তছরুপ ও বেআইনি লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক ধারার উল্লেখ রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে। ইডি-র এই পদক্ষেপের ফলে আরজি কর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের আইনি চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছে আইন ও প্রশাসনিক মহল।
শুনানির সময় আখতার আলির আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল অসুস্থ। আগাম জামিনের আবেদন ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে খারিজ হয়েছে। বর্তমানে তিনি আন্দুল রোডের ইন্দাস নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসক বেড রেস্টের পরামর্শ দিয়েছেন। সেই কারণেই এদিন আদালতে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে সময় চাওয়া হয়।
নতুন দল ক্ষমতায় এলে এই প্রতিশ্রুতি পূরণে হিমশিম খাবে! রাজ্যের বাজেটকে কটাক্ষ অশোক লাহিড়ির
এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারক প্রশ্ন তোলেন, বেড রেস্টের পরামর্শ থাকলে কেন নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হল। আদালতের মন্তব্য, “আপনার ক্ষমতা আছে, নার্সিংহোমকে কেন বিপদে ফেলছেন?” একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই অসুস্থতার যুক্তিতে তারা সন্তুষ্ট নয়।
এরপর সিবিআইয়ের তরফে আদালতকে জানানো হয়, অভিযুক্ত আখতার আলি ইচ্ছাকৃতভাবেই আদালতের হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিন খারিজ হওয়ার ঠিক পরেই ৬ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাকে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করে সিবিআই দাবি করে, আদালতের নির্দেশ এড়াতেই এই পদক্ষেপ।
শুনানির সময় আরেক অভিযুক্ত সন্দীপের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল জেলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, অথচ আখতার আলি দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলেছেন। তাঁর দাবি, আখতার আলি গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি মরিয়া হয়ে আদালতের আদেশ এড়িয়ে চলছেন। একই সঙ্গে তিনি আখতার আলিকে গ্রেফতার করে সিবিআই হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানান।
সিবিআইও এই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে জানায়, আখতার আলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক জানান, এই তথাকথিত অসুস্থতার বিষয়ে আদালত সন্তুষ্ট নয়। এরপরই আদালতের তরফে আখতার আলি-র বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই নির্দেশের ফলে আরজি কর দুর্নীতি মামলায় তদন্তের গতি আরও বাড়বে বলেই মনে করছে আইন মহল।
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি সুজিত কুমার ঝা স্পষ্টভাবে জানান, আদালতের মতে আখতার আলি ইচ্ছাকৃতভাবেই কোর্টের নির্দেশ মানছেন না। অসুস্থতার যুক্তিতে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে আদালত সন্তুষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক। চিকিৎসক বেড রেস্টের পরামর্শ দিলেও কেন নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হল, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারক। আদালতের মতে, এটি আদালতের আদেশ এড়ানোর একটি কৌশল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
সিবিআইয়ের তরফেও জানানো হয়, অভিযুক্ত আখতার আলি পরিকল্পিতভাবেই হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করছেন। সব পক্ষের বক্তব্য ও নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি সুজিত কুমার ঝা মন্তব্য করেন, এই আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
