যদিও এই ভোটের ফলাফল হয়েছে মাত্র ৭৫ জনের ভোটের ওপরেই।
যদিও এদিন তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, "প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুজোর জন্য জোরাজুরির বিষয় নেই। পুজো করতে চেয়েছে ওরা। তবে যারা বলছেন ওখানে হয় না। তাদেরকেও সম্মান দিয়েছি। এই নিয়ে জোরাজুরির বিষয় নেই।" যদিও তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের প্রেসিডেন্সি ইউনিটের দাবি ছিল, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পুজো হবে, দেবী সরস্বতীর আরাধনা হবে এর মধ্যে নেতিবাচক কোনও মতামত থাকতে পারে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ভাবে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা করা সম্ভব নয়, এমনই জানিয়েছেন আমাদের ডিন অফ স্টুডেন্টস।''
advertisement
আরও পড়ুন: পর্যটকদের জন্য সুখবর, উত্তরবঙ্গ পৌঁছতে বিশেষ ট্রেন চালু! জানুন বিশদে
তাঁর আঅরও দাবি, ''অথারিটি স্পষ্টভাবে যে পয়েন্টটি তুলে ধরেছেন- প্রেসিডেন্সি সেক্যুলার ক্যাম্পাস। অথারিটি হয়ত সেক্যুলার শব্দের সঠিক সাংবিধানিক অর্থ জানেন না। সংবিধানে বলা আছে Secularism is a positive concept, সেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজেদের মতো আচার- অনুষ্ঠান-উৎসব পালন করতে পারবে। সেক্যুলারিজম একটি সদর্থক ভাবনা। সেখানে কোথাও বলা নেই কোনও মানুষ তার নিজস্ব ধর্মীয় আচরণ পালন করতে পারবে না। আমাদের প্রশ্ন অথারিটির কাছে তারা কি সেক্যুলার ক্যাম্পাসের ধোঁয়াশার আড়ালে বাম সংঠনের চাপে নতিস্বীকার করেছেন? কারণ এরকম উদাহরণ ইতিহাসে আমরা দেখতে পেয়েছি যেখানে সুভাষ চক্রবর্তী মহাপীঠ তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বলে তাঁকে সিপিএম দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। অথারিটি কখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাবিরুদ্ধ আচরণ করতে পারেন না৷ আমরা মনে করি অথারিটি হয়তো চানও না। দীর্ঘ ২০৬ বছরের ইতিহাসে বাম একনায়কতন্ত্রের অত্যাচারকে আসলে অথারিটি ভয় পাচ্ছে।''
আরও পড়ুন: শাড়িতে ফুটে উঠেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সব নজর এখন বীরেন কুমার বসাকের তাঁতে
তিনি আরও বলেন, ''এরকম ভয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছাত্রছাত্রী অযথা পায়। তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে বলছি ওদের দিন চলে গেছে, আর ফিরবে না, নিজেরা ঘুরে দাঁড়াও, সত্যের জন্য দাঁড়াও। অকারণে ওদের অযৌক্তিক মানসিকতাকে, কাজকে সমর্থন করা বন্ধ করো। তোমরা পালটা প্রশ্ন করো দেখবে উত্তর দিতে পারবে না ওরা, মুখ বন্ধ। শিক্ষাঙ্গনে সরস্বতী পুজো কেউ আটকাতে পারবে না। অথারিটিকে অসংখ্য চিঠি, মেইল করা হয়েছে, রিপ্লাই হিসেবে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবিরুদ্ধ আচরণ পেয়েছি আমরা। প্রেসিডেন্সিতে সরস্বতী পুজো বহু প্রাক্তনীরাও চায়, কিন্তু ওই যে মুখ ফুটে কেউ বলতে সাহস পায় না। তাদের প্রত্যেকের প্রতিনিধি হয়ে আমরা, প্রেসিডেন্সির সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা, জোর গলায় বলছি PUTMCP সরস্বতী পুজো করে দেখাবে। যেহেতু ছাত্রসংসদ এই পদক্ষেপ নিতে অক্ষম সাধারণ ছাত্রছাত্রীর কথা ভেবে তাই PUTMCP এই শুভ উদ্যোগে হাত লাগাল। শুভ সূচনায় সকলকে আমরা পাশে চাই। প্রেসিডেন্সির ভাইবোনেদের, পশ্চিমবঙ্গের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাইবোনেদের। প্রত্যেকের কাছে আমাদের প্রশ্ন- শিক্ষাঙ্গনে সরস্বতী পুজো করা কি অপরাধ? বামপন্থার অবিবেচক, অযৌক্তিক, অত্যাচারী মানসিকতাকে যদি এখনও প্রশ্রয় দাও তাহলে বুমেরাং হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসতে বেশি সময় লাগবে না। অথারিটিকেও একই কথা বলছি। যত আমাদের বাধা দেওয়া হবে তত আমরা লক্ষের দিকে এগবো।"
