মঙ্গলবার রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের ডাকে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকটি শুরু থেকেই বাকবিতণ্ডায় তেতে উঠেছিল। ভোটের আগে প্রশাসনিক এই বৈঠকেই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। আধার কার্ডকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক— তৃণমূল, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেস একযোগে আপত্তি তোলে কমিশনের ভূমিকায়। চিৎকার, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় সভাকক্ষ।
advertisement
আধার কার্ড কেন বাদ? তুমুল বাকবিতণ্ডায় ‘রণক্ষেত্র’ সর্বদলীয় বৈঠক! ৩ দলের মুখোমুখি সংঘাত
এই প্রেক্ষিতেই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম)-এর নেতা সুজন চক্রবর্তী।
সিপিআই(এম)-এর তরফে সাফ প্রশ্ন তোলা হয়— “কোন আইন অনুযায়ী কমিশন নির্ধারণ করছে কে নাগরিক আর কে নয়?” অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রতিনিধি সরাসরি বলেন, “বাংলাদেশি জানলেন কী ভাবে?” — এই মন্তব্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বৈঠকের ঘরে।
আতঙ্কে মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে। সিইও-এর সর্বদল বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ একাধিক রাজনৈতিক দলের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, সিইও-র উপস্থিতিতেই সভা বারবার থামাতে হয়। সভা শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করতে গিয়েও বারবার বাধা পড়ে রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক বাকযুদ্ধে।
ঘূর্ণিঝড় মন্থা এসে গেল! অন্ধ্র উপকূলে শুরু ‘ল্যান্ডফল’, পরবর্তী ৩–৪ ঘণ্টা চলবে দুর্যোগ, বাংলায় কখন?
বৈঠক শেষে সুজন বলেন,
“আমাদের মনে হয়েছে, সিইও অফিস এখনও প্রস্তুত নয়। বলা হচ্ছে ১২টি ডকুমেন্ট নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজন — কিন্তু যদি একটিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরা না হয়, তাহলে বাকি ১১টি কি নাগরিকত্বের প্রমাণ হতে পারে? এটা আসলে এক গভীর বিভ্রান্তির চক্র তৈরি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“এখন মনে হচ্ছে, একদিকে CAA, অন্যদিকে SIR— দুটোই হাত ধরাধরি করে চলছে। বাংলার মানুষকে ইচ্ছে করেই ভয় আর বিভ্রান্তির মধ্যে রাখা হচ্ছে। এটা কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটা রাজনৈতিক চাল।”
সিপিআই(এম)-এর দাবি, রাজ্যের নির্বাচন কমিশন ভোটার যাচাইয়ের নামে NRC-এর ছায়া নামাচ্ছে, আর এর মাধ্যমে মানুষকে আতঙ্কে ফেলা হচ্ছে। সুজনের কথায়, “নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিই নিরপেক্ষ হয়, তবে কেন নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলছে?” সুজনের দাবি, জন্মস্থান খুঁজে নাগরিকত্ব ঘোষণা করা কমিশনের দায়িত্ব নয়।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সুজন চক্রবর্তীর এই বক্তব্যে শুধু নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নয়, CAA–SIR ইস্যুতে কেন্দ্রের ভূমিকার বিরুদ্ধেও নতুন বিতর্কের সূচনা হল।
