নিউটাউনের কদমপুকুর এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন সংস্থার শ্রমিকদের দুই দলের মধ্যে মারামারি লাগে। অভিযোগ শ্রমিকরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তবে কী নিয়ে মারামারি, সেই বিষয় স্পষ্ট নয়।
মারামারিতে ৬-৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রড, বেলচা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহতদের রাজারহাট রেজওয়ানী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কনস্ট্রাকশন সাইট। টেকনা সিটি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
advertisement
জানা যায়, নিউটাউনের কদমপুকুরে মেট্রোর কাজ চলছে। সেখানেই শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা। একাধিক ঠিকাদার কর্মীরা পর পর টিনের অস্থায়ী ঘরে থাকেন। সেখানকার দুই ঠিকাদার প্রতাপ ও বুলেটের মধ্যে অশান্তি চরমে! রবিবার ছুটির দিন পার্টি চলছিল ঠিকাদার বুলেটের শ্রমিকদের ঘরে। সেখানেই তাঁদের মধ্যে ঝামেলা বাঁধে। ঝামেলা ঠেকাতে ছুটে আসেন প্রতাপ ঠিকাদারের কর্মীরা। অভিযোগ, ঘরে ঢুকলে মদ্যপ অবস্থায় বুলেটের কর্মীরা তাঁদের মারধর করে। গ্যাস জালিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। এলোপাথারি চালাতে থাকে শাবল, ছুরি। নিমেষের মধ্যেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। আগুনে পুড়ে যায় ১০ টি ঘর। রাশিরাশি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস পুড়ে ছাই।
আহত শ্রমিক মাংরু মণ্ডল জানান, গতকাল হঠাৎ করেই বুলেটের লোকজন আমাদের উপর চড়াও হয়। আমার শাবলে মুখ কেটে যায়। তার পর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।” আর এক শ্রমিক আলি আহমেদ আনসারি জানান, ” আমরা সঞ্জয় কুমার নামে এক ঠিকাদারের লোক। বুলেট ও প্রতাপের লোকজনের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। বুলেটের লোকেরা আগুন লাগিয়ে দেয়। আমাদের ঘর পুড়ে গিয়েছে।”
অন্যদিকে, নিউটাউনে উদ্দাম মদ্যপান ও উচ্চস্বরে গান বাজানোর প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ উঠল। দুষ্কৃতীদের হামলায় মাথা ফাটল স্থানীয় বাসিন্দার৷ ইকোপার্কের অদুরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে অসামাজিক কার্যকলাপ ও উচ্চস্বরে গান বাজানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন এক প্রতিবেশী। ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ ঘটনাটি ঘটেছে নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকার পশ্চিমপাড়ায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলার জেরে গুরুতর জখম হয়েছেন শওকত আলী নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর মাথায় ৬টি সেলাই পড়েছে। আঘাতের জেরে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন শওকত, মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বার হতে থাকে। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইকোপার্ক থানার পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই গেস্ট হাউস থেকে ৪ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
