যদিও অভয়ার বাবা-মায়ের এই অভিযোগ মানতে চাননি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷ তাঁর পাল্টা দাবি, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট অভয়ার মৃত্যুর দিন সিপিএমই প্রথম ডাক্তারি পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছিল৷
অভয়ার মা এ দিন অভিযোগ করেন, ‘সিপিএম যেভাবে আমার মেয়েকে ভোটের ময়দানে নিয়ে এসে পায়ের তলার জমি শক্ত করে ভোট কাটাকাটি করে তৃণমূলকেই জেতানোর চেষ্টা করছে, তাতে মনে হয়েছে আমার এই আন্দোলনে আসা দরকার৷ তাই আমি গতকাল নিজেই ফোন করে জানিয়েছি প্রার্থী হতে চাই৷’
advertisement
একই সুরে অভয়ার বাবাও সিপিএমকে নিশানা করে বলেন, ‘মেয়ের বিচারের স্বার্থে কেউ আন্দোলন করেনি৷ প্রথম থেকেই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল খারাপ৷ আমার মেয়ের মৃত্যুকে তারা রাজনীতির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে৷ কেউ খোঁজ নেয়না আমরা কেমন আছি৷ ৯ অগাস্ট ২০২৪-এর ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে নিজেদের ভোট প্রচারের জন্য৷ এরা ভাবে না ওই ছবি আবার দেখলে একজন বাবা মায়ের মনের কী পরিস্থিতি হতে পারে৷ বাবা মায়ের কী অবস্থা ওরা কেউ জানার চেষ্টা করেনি৷’
অভয়ার মা-বাবার এই অভিযোগের জবাব দিয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘কোনও বিজেপি, আরএসএস তখন কেউ ছিল না৷ সেদিন বুদ্ধদার শেষ যাত্রা থেকে চলে এসে কলতান, মীনাক্ষীরা মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি আটকায়৷ তখন আমরা দেখিনি ওই ছাত্রী কোন পরিবারের, তাঁর বাবা-মাকেও আমরা চিনতাম না৷ ওখানকার স্থানীয় তৃণমূল নেতারা সেদিন তাড়াতাড়ি লাশ পাচার করার চেষ্টা করেছিল৷ বিজেপি, আরএসএস-এর মুরোদ আছে ধর্ষিতাকে ন্যায় দেবে, অপরাধীকে ধরবে? আমরা অভয়ার বাবা-মাকে বলিনি আপনারা সিপিএম করুন৷ আমাদের সঙ্গে অভয়ার বাবা-মায়ের কোনও স্বার্থের সংঘাত নেই৷ বিজেপি- আরএসএস-এর সঙ্গে আছে৷ ওর বাবা মাকে বলব কোনও পক্ষ নেবেন না৷’
বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি৷ সেই তালিকায় অবশ্য পানিহাটি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি৷
