এর আগেই মেসি ইভেন্ট সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অনলাইন টিকিট বিক্রির সংস্থার এক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল SIT। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল ওই ঘটনার পিছনে কোনও আর্থিক অনিয়ম বা ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, স্পনসারদের কাছ থেকে শতদ্রু দত্ত কত টাকা স্পনসরশিপ হিসেবে পেয়েছিলেন এবং সেই অর্থের লেনদেন কীভাবে হয়েছে, তা জানতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। ইতিমধ্যেই শতদ্রু দত্তের তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে SIT। এই মোবাইলগুলির মাধ্যমেই ইভেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
advertisement
মেসি ইভেন্ট বিশৃঙ্খলা মামলায় অনলাইন টিকিট সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট আকুল নারুলাকে নোটিশ পাঠিয়ে দিল্লি থেকে ডেকে এনে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। SIT সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আকুল নারুলাকে শতদ্রু দত্তের মুখোমুখি বসিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়।
প্রসঙ্গত, শতদ্রু দত্ত গ্রেফতার হওয়ার সময় তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের তথ্য সামনে আসে। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তাঁর বাড়ি থেকে আরও দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে SIT।
এই তিনটি মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস, চ্যাট ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মেসি ইভেন্ট ঘিরে অনলাইন টিকিট সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কী ধরনের কথাবার্তা হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু দত্ত দাবি করেছেন, অনলাইন টিকিট সংস্থার কাছ থেকে তিনি এখনও টাকা পাননি। তাঁর দাবি, ওই টাকা পেলেই সাধারণ দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে। যদিও অনলাইন টিকিট সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইনি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে অনলাইন টিকিট সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টকে আবারও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
মেসি ইভেন্ট বিশৃঙ্খলা কাণ্ডে আর্থিক লেনদেন ও দায়িত্ব নির্ধারণ ঘিরে তদন্ত এখনও চলমান। তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে আগামী দিনে আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত SIT সূত্রের।
