এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে সংসদে। তোলপাড় পরে যায় বাংলা জুড়ে। এবার ফের একবার বাংলার ইতিহাস ও আবেগকে আঘাত করার অভিযোগ উঠল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
এরপরেই মোদিকে কড়া আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর পোস্টকে ট্যাগ করে x হ্যান্ডেলে তাঁর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। মমতা তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে লেখেন, “গোটা বিষয়টি এক অবাক করা ঘটনা! রাজ্যের সংস্কৃতিতে ফের আঘাত।”
advertisement
একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে লিখলেন, “আমি আবারও স্তম্ভিত! শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ হিসেবে পূজিত। ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলার মানে বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না।”
তাঁর মন্তব্য, “আবারও হতবাক। আবারও, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি তাঁর সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা প্রদর্শন করছেন। আজ যুগাবতার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই উপলক্ষে মহান সাধককে শ্রদ্ধা জানানোর চেষ্টা করার সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রী মহান সাধকের নামের সঙ্গে একটি অভূতপূর্ব এবং অনুপযুক্ত উপসর্গ ‘স্বামী’ যোগ করেছেন।”
দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “”শ্রী রামকৃষ্ণকে ব্যাপক অর্থে ‘ঠাকুর’ হিসাবে সম্মানিত করা হত। যদিও তাঁর শিষ্যরা তাঁদের গুরুদেবের মৃত্যুর পরে রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশন গঠন করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে সেই ভিক্ষুদের ‘স্বামী’ বলার প্রচলন হয়। কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সব সময় ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের যে পবিত্র ত্রয়ী-ঠাকুর-মা-স্বামীজি-সেখানেও তিনি ঠাকুরই। মা সারদা ‘মা’ এবং বিবেকানন্দ হলেন ‘স্বামীজি’ বলে আখ্যায়িত হন।”
প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মমতা লেখেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি যে, আধুনিক ভারত গঠনকারী বাংলার মহান রেনেসাঁ ব্যক্তিত্বদের জন্য নতুন এই সম্বোধন এবং প্রত্যয় ব্যবহার বন্ধ করুন। আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার এই নবজাগরণের মহাপুরুষদের অপমান করা দয়া করে বন্ধ করুন। তাঁদের জন্য রোজ নতুন নতুন বিশেষণ আবিষ্কার করার কোনও প্রয়োজন নেই। দয়া করে, বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।” প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও।
