কলকাতা: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতায় শোরগোল৷ তৃণমূলের স্ট্রাটেজিস্ট অফিস, আইটি সেল I-PAC এর সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। তল্লাশির মাঝেই বেলা ১২ টা নাগাদ প্রথমে প্রতীকের বাড়িতে আর তারপর I-PAC-এর সল্টলেকের অফিসে পৌঁছন মমতা। অফিস থেকে নেমে এসে বলেন, ‘‘ভোর ৬টা থেকে শুরু করেছে আমাদের পার্টির ডেটা ল্যাপটপ সেগুলো সব ওরা ট্রান্সফার করেছে৷ আমি মনে করি এটা ক্রাইম৷’’
advertisement
মমতা বলেন, ‘‘আমি জানি আপনারা উদ্বিগ্ন৷ মিডিয়াকে ধন্যবাদ৷ জেনে রাখুন সকাল ৬টা থেকে স্টার্ট হয়েছে এটা (ইডি রেইড), তখন অফিসে কেউ ছিল না৷ আমাদের পার্টির সব ডেটা, সমস্ত ল্যাপটপ, আইফোন, ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি, এসআইআরের কাজ চলছে, সেগুলো সব ফরেন্সিক টিম নিয়ে ট্রান্সফার করেছে৷ আমি মনে করি এটা ক্রাইম৷’’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা পার্টি অফিস৷ এটা প্রাইভেট অর্গানাইজেশন নয়৷ ipac তৃণমূলের অথরাইসড টিম৷ সেই টিমের কাগজ লুট করা হয়েছে৷ আমাদের দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা, নথিপত্র সব ছিল৷ সমস্ত টেবিল ফাঁকা৷ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে৷ মানুষকে সাহায্য করার জন্য আমাদের কাজ চলছে। এটা প্রাইভেট অর্গানাইসেশন নয়। তৃণমূল কংগ্রেস এর অথরাসাইড এটা। এটা ক্রাইম। এটা কি ঠিক হয়েছে? আমরা ইনকাম ট্যাক্স দিই। আমাদের অডিট হয়{ প্রয়োজনে ইডি ইনকাম টাক্স থেকে কাগজ নিতে পারত৷ যদি প্রয়োজন থাকত নোটিস পাঠাত৷’’
এরপরেই সরাসরি বিজেপি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও আক্রমণ করেন মমতা৷ বলেন, ‘‘অমিত শাহ বাংলা জিততে হলে লড়াই করে জিতুন৷ আমাদের পার্টির আইটি সেল৷ কেন রেইড করবেন? অমিত শাহ নির্বাচনের মাধ্যমে জিতে দেখান৷ কেন আইটি রেইড? ইলেকশন কমিশন বিজেপির নির্দেশে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করছে৷ কোনও লিখিত নির্দেশ নেই৷’’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রতীকের বাড়িতে, অফিসে এসে এই রেইড। আমি মনে করি এটা অপমান সব আইটি দফতরের কর্মীদের৷ এটা গণতন্ত্রের হত্যা৷ স্বাধীনতার হত্যা৷ প্রধানমন্ত্রীকে বলব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করুন৷ নির্বাচনের পুরো স্ট্র্যাটেজি চুরি করা হয়েছে৷ যতক্ষণ না প্রতীক জৈন অফিসে আসছে আমি এখানে আছি৷’’ বিজেপির উদ্দেশ্যে মমতার হুঙ্কার, ‘‘এবার আসন সংখ্যা 0 হবে৷’’
কয়লাকাণ্ডের পুরনো মামলায় হঠাৎ তৎপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সকাল সকাল নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা I-PAC কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সল্টলেকে সংস্থার অফিসেও উপস্থিত হন তদন্তকারীরা। আর সেই খবর পেয়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা। খালি হাতে প্রতীকের বাড়িতে ঢুকেছিলেন মমতা। কিন্তু বেরিয়ে আসেন একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন মমতা। I-PAC-এর কাছ থেকে তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা, নির্বাচনী কৌশল, দলের ভিতরকার তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। তার মধ্যেই দু’জায়গাতেই পৌঁছে গেলেন মমতা। রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেকের দফতরে হানা দিল ইডি। ইডির আধিকারিকেরা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও গিয়েছিলেন তিনি। ইডি সূত্রে খবর, দিল্লির এক পুরনো মামলার জন্যই এই অভিযান।
সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলের ১১ তলায় আইপ্যাকের দফতর। ওই তলাটি ‘সিল’ করে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইডি-র দল আইপ্যাক-এর দফতরে যখন থেকে তল্লাশি শুরু করে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারটেও। মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ে। পাল্লা দিয়ে বাহিনী বাড়ায় বিধাননগর পুলিশও।
