ইতিমধ্যেই মেলা উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হয়েছে। পুণ্যস্নানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। আগের সরকার এখানে তীর্থযাত্রীদের উপর যে ‘তীর্থ কর’ চাপিয়ে রেখেছিল, আমরা এসেই তা তুলে দিই। মেলায় যেতে এখন আর কোনও কর দিতে হয় না। তার উপর পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’’
advertisement
কপিল মুনির আশ্রম-সহ মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস-ভেসেল-লঞ্চ-জেটি নদীপথ ড্রেজিং, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা, আলোকসজ্জা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, হাসপাতাল-ডাক্তার-নার্স- অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের থাকার জায়গা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা, জরুরি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার পরিষেবা, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা — সবই করা হয়েছে।
আরও পড়ুন– রাজ্য জুড়ে জাঁকিয়ে শীতের পূর্বাভাস ! এই ঠান্ডা আর কত দিন চলবে?
কিছুদিন আগেই মেলা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেন। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এবার গঙ্গাসাগর যাতায়াতের জন্য মুড়িগঙ্গা নদীর উপর রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের টাকায় ‘গঙ্গাসাগর সেতু’ তৈরি করছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা, চার লেনের এই অত্যাধুনিক ব্রিজটি বানাতে যে ১৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে, তা আমরাই দিচ্ছি। গত ৫ জানুয়ারি এই সেতুর শিলান্যাস করে এসেছি। এটি তৈরি হয়ে গেলে তীর্থযাত্রীরা সরাসরি সড়কপথে খুব কম সময়ে গঙ্গাসাগর পৌঁছাতে পারবে। সাগরদ্বীপের স্থানীয় মানুষের জন্যও এই সেতু হবে আশীর্বাদস্বরূপ। এলাকার পর্যটন শিল্পও বিপুলভাবে উপকৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে এই সেতুটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে। প্রার্থনা করি, সকল তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুভ হোক এবং সকলের মনোবাসনা পূর্ণ হোক।’’
তবে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আশা রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ মেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিদারুণ অবহেলা ও অমনোযোগের একদিন অবসান ঘটবে।’’
