শোকবার্তায় তিনি লিখলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আজ সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর ৷ আদতে কোচবিহারের বাসিন্দা মহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল।
প্রয়াত এরশাদ বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সংসদের বিরোধী দলনেতা ছিলেন ৷ তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক জগতে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল। আমি মহম্মদ এরশাদের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি ।’
advertisement
১৯৩০ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহারে জন্ম হয় এরশাদের। পরে পরিবারের সঙ্গে চলে যান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রংপুরে। সেখানকার স্কুলেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন এরশাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন তিনি ৷ এরপর ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। একাত্তরে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এরশাদ। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে চলে আসেন। ১৯৮২-তে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশে শুরু হয় সামরিক শাসন ৷ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এইচ এম এরশাদ। প্রায় সাত বছর ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৯০ সালে প্রবল গণ বিক্ষোভের মুখে পড়ে রাষ্ট্রপতি পদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এরশাদ ।
দিনহাটায় কেটেছে এরশাদের শৈশব৷ বাংলাদেশ থেকে শিকড়ের টানে বারবার ছুঁটে আসতেন দিনহাটায়। সেখানে এখনও বাস করে তাঁর ভাইয়ের পরিবার। ২০১৭-র এপ্রিলে শেষবার এদেশে আসা। তাঁর প্রয়াণে শোকে মিলে গেল এপার-ওপার ৷
আগামী মঙ্গলবার রঙপুরে তাঁর শেষ কৃত্য সম্পন্ন হবে। এরশাদের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
