আইপ্যাক-এর অফিসে হানা দিয়ে তৃণমূলের নথি চুরির অভিযোগ তুলে এ দিন যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অন্যদিকে ইডি কলকাতা হাইকোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গতকাল তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হয়েছ৷ সিবিআই তদন্তের আর্জিও জানিয়েছে ইডি৷
advertisement
এ দিন অবশ্য তৃণমূলনেত্রী হাজরা মোড়ের সভা থেকে দাবি করেন, আমি কোনও অন্যায় করিনি৷ গতকাল যা করেছি তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে করেছি৷ তুমি আমাকে খুন করতে এসেছো৷ আমারও আত্মরক্ষার অধিকার আছে৷ আমার সব বিএলএ-২, আমার সব তথ্য চুরি করেছো। তোমরা ৬ টায় ঢুকেছো, আমি তো ১১.৪০ নাগাদ ঢুকছি। ততক্ষণে সব সরিয়ে নিয়েছো। আমি প্রতীককে (জৈন)ফোন করলাম, দেখলাম ফোনটা ধরল না। আমি দেখলাম জোড়া ফুল চিহ্নে তো আমরা দাঁড়াই৷ জোড়া ফুল, পার্টি যদি রক্ষা না হয়, লড়াইটা করব কী করে? একটা মঞ্চ তো দরকার৷
আইপ্যাক যে অতীতে বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছে, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী৷ মমতা বলেন, আইপ্যাক তো ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির হয়ে কাজে করেছিল৷ চন্দ্রবাবু নাইডু, জগন, নীতীশের জন্য কাজ করেছে৷ তখন প্রশান্ত কিশোর ছিল৷ এখন মালিকানা বদল হয়েছে৷ ওদের আমরা আইটি সেল দেখার দায়িত্ব দিয়েছি৷
প্রসঙ্গত, গতকাল বেসরকারি সংস্থা আইপ্যাক-এর অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি৷ কয়লা চুরি কাণ্ডে তদন্তের সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয় বলে ইডি সূত্রে দাবি ককরা যদিও সেই তল্লাশি চলাকালীন প্রথমে প্রতীক জৈন এবং তার পর আইপ্যাক-এর সল্টলেকের দফতরে হাজির হন মমতা৷ তিনি অভিযোগ করেন, ইডি-কে ব্যবহার করে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার৷
এই ঘটনার পর এ দিন হাইকোর্টে আলাদা আলাদা মামলা করে তৃণমূল এবং ইডি৷ এ দিন সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ১৪ জানুয়ারি শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ৷
