এ দিনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেরলের নাম বদল করে কেরলম রাখার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ কেরলের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রস্তাব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ ২০২৪ সালে কেরল বিধানসভার পক্ষ থেকে এই নাম বদলের প্রস্তাব কেন্দ্রকে পাঠানো হয়েছিল৷
রাজ্য বিধানসভা থেকেও পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে বাংলা রাখার জন্য ২০১৮ সালে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল৷ যদিও সেই প্রস্তাবে এখনও সাড়া দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার৷ অথচ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রস্তাব মেনেই তিন ভাষায় তিনটি নাম রাখার বদলে সব ভাষাতেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন নাম বাংলা রাখার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল৷
advertisement
রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাবে কেন অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না, এ দিন সেই প্রশ্নই তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাংলাকে বঞ্চনা করার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেরলের নাম কেরলম হয়েছে আমরা খুশি, কেরলের সবাইকে আমার শুভেচ্ছা৷ বাংলার নাম বদলের বিষয়ে কেন্দ্রের ২-৩ বার সংশোধনা এসেছে, আমরা সব করেছি, কেন্দ্র যা যা বলেছে সব করেছি, ৫ বছর ধরে কেন্দ্র বাংলার নামটাই করছে না৷ বাংলার সংস্কৃতি, শিক্ষা বাংলার নামের সঙ্গে যুক্ত আছে, বাংলা থেকে যারা বাইরে যায় বা বাংলা থেকে অন্য জায়গায ডাক পায় তাদেরকে লাস্ট বেঞ্চে গিয়ে বসে থাকতে হয়, সবার পরে তাঁদের ডাকা হয়, বাংলা হলে আমরা এ থেকে বি তে চলে যেতে পারবো৷’
সিপিএম এবং বিজেপি-র আঁতাঁতকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেরলের নতুন চ্যাপ্টার ওপেন করলেন৷ সিপিএমের সঙ্গে ভাব হয়েছে বলে আপনারা করলেন৷ এটা এখন আর অলিখিত জোট নয়, কেরলে সিপিএমের সঙ্গে বিজেপি-র লিখিত জোট হয়েছে৷ করেছেন ভাল করেছেন, তাহলে বাংলাকে বাদ দিলেন কেন? বাংলার নাম পরিবর্তন কেন হবে না, আসলে আপনারা বাংলা বিরোধী, একদিন আপনারা চলে যাবেন তখন আমরা ঠিক করিয়ে আনবো, বাংলার অধিকার বাংলার মানুষ পাবে৷’
যদিও রাজ্যের নামবদল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেননি বিরোধীরা৷ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মতের স্থিরতা নেই৷ কেরলের নাম বদল নিয়ে শাসক বিরোধী সবাই একমত৷ এ রাজ্যের নাম কেন বদল হবে? মুখ্যমন্ত্রী নিজে পাঁচ বার পাঁচ রকমের নাম বদল করেছেন৷ রাজ্য সরকার বারবার পরিবর্তন করেছেন, কারণ, তারা বেঠিক কাজ করেছেন৷ কেরলে এই নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছিল না, কোনও সমস্যাই ছিল না, তার জন্য এই নাম বদল হয়েছে৷’
বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘কেরলের নাম বদলের প্রসঙ্গ তুলে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রাজ্য সরকার যখন প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চয়ই ভাববে।’
পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের দাবিকে সমর্থন করেননি কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও৷ তাঁর মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গ নাম নিয়ে আমার অন্তত কোনও সমস্যা নেই৷ আমার মনে হয় না রাজ্যের কোনও মানুষেরও অসুবিধা আছে৷ এর থেকে রাজ্যের উন্নয়নে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের ভাবার সুযোগ রয়েছে৷’
