ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ খুলে দেওয়া হয় দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের দরজা। মন্দির খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয় নিয়মিত পুজো। ফুলের ডালা হাতে, চোখে অগাধ বিশ্বাস আর মনে আশার আলো নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন ভক্তরা। বেলা বাড়লেও ভিড়ের কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি।
প্রতিবারের মতো এ বছরও দক্ষিণেশ্বরে ভক্ত সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি, মন্দির সূত্রে খবর, সকাল থেকেই লক্ষাধিক ভক্তের উপস্থিতি ছিল। প্রশাসনের অনুমান, বিকেলের দিকে ভিড় আরও বাড়বে। বিশেষ করে বিকেল ৫টা নাগাদ নির্ধারিত বিশেষ আরতিকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
advertisement
দক্ষিণেশ্বরের পাশাপাশি কাশীপুর উদ্যানবাটী ও কামারপুকুরেও সকাল থেকেই উপচে পড়ে ভিড়। দীর্ঘ লাইনেই ধরা পড়েছে ভক্তদের ধৈর্য ও বিশ্বাস। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কল্পতরু উৎসবের দিনে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে তা পূরণ হয়—সেই বিশ্বাসেই এত মানুষের সমাগম।
শহরের অন্য প্রান্তেও একই ছবি। টালিগঞ্জের করুণাময়ী কালীমন্দির, লেক কালীবাড়ি এবং কালীঘাটে সকাল থেকেই লম্বা লাইন নজরে আসে। ভক্তদের ভিড় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মন্দির চত্বরে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী, করা হয়েছে একাধিক লাইনের ব্যবস্থা যাতে ভক্তরা সুশৃঙ্খলভাবে দর্শন করতে পারেন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে চালু করা হয়েছে হেল্প ডেস্ক, যেখানে ভক্তদের লাইনের দিকনির্দেশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী। কোনও রকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে কড়া নজরদারি চলছে সর্বত্র। ভক্তি, বিশ্বাস আর নিরাপত্তার মেলবন্ধনে শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হচ্ছে বছরের প্রথম দিনের এই বিশেষ উৎসব।
