যাত্রীদের অভিযোগ, এই অভিজ্ঞতা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখা যায়। যদিও পূর্ব রেলওয়ে ঘন ঘন অভিযান ও নজরদারির মাধ্যমে সংরক্ষিত কোচে অননুমোদিত ভ্রমণের এই প্রবণতা রুখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা সফল হওয়া সম্ভব নয় বলে মত তাঁদের। সংরক্ষিত কোচগুলি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যাঁরা আগে থেকে টিকিট বুক করেছেন, তাঁরা একটি নিরাপদ, মার্জিত এবং আরামদায়ক পরিবেশ পান। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবারগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। যখন অননুমোদিত ব্যক্তিরা এই সংরক্ষিত স্থানগুলিতে ভিড় জমায়, তারা কেবল একটি ‘আসন’ দখল করে না; বরং তারা বৈধ যাত্রীদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করে একটি পরিকল্পিত যাত্রাকে যন্ত্রণায় পরিণত করে।
advertisement
নৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি, এই ধরনের কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ১৯৮৯ সালের রেলওয়ে আইন অনুযায়ী এর গুরুতর পরিণতিও রয়েছে। বিশেষত, এই আইনের ১৫৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত কামরায় কেউ প্রবেশ করলে রেলকর্মীরা তাকে সরিয়ে দিতে পারেন এবং সেই ব্যক্তি জরিমানার যোগ্য হবেন। অপরাধীদের তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ, পুরো ভাড়ার সঙ্গে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং কিছু ক্ষেত্রে কারাদণ্ডও হতে পারে। এছাড়া, এই অবাঞ্ছিত ভিড় প্রভাব ফেলে ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচলের উপরেও। এটি অনবোর্ড কর্মীদের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে বাধা দেয়, স্টেশনে ওঠানামার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে এবং জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে ট্রেনের পরিষেবার মান কমিয়ে দেয়।
পূর্ব রেলওয়ে সমস্ত যাত্রীদের কাছে সুআচরণ করার এবং সহযাত্রীদের সংরক্ষণের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জরুরি আবেদন জানাচ্ছে। যদি কোনও যাত্রী তাঁদের কোচে অননুমোদিত ব্যক্তি দেখেন, তবে তাঁদের অবিলম্বে কর্তব্যরত কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, RailMadad (RailOne) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো উচিত অথবা রিয়েল-টাইম সহায়তার জন্য সমন্বিত হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ কল করা উচিত। এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান যে, প্রতিটি বৈধ যাত্রীর আরাম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রেলের অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রশাসন এনফোর্সমেন্ট ড্রাইভ জোরদার করলেও রেল ভ্রমণ হওয়া উচিত নাগরিক শৃঙ্খলার পরিচয়েই। জনগণকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে অসুস্থ, বৃদ্ধ এবং শিশুদের যেন তাঁদের আইনত প্রাপ্য জায়গার জন্য লড়াই করতে না হয়।
