ডেকার্স লেনের চিত্তদার দোকানের ম্যানেজার বুবাই পন্ডিত বলেন, “এরকম চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। গ্যাসের দাম প্রতিদিন বাড়ছে, আর যোগান কমছে। গোলাগুলি যত বাড়ছে ততই দাম বাড়ছে। ভবিষ্যতে কী করব বুঝতে পারছি না।”
‘কাল থেকে আর সাপ্লাই আসবে না’! আতঙ্কিত স্বর হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রধানের…এলপিজি ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে
advertisement
কী ভাবে তৈরি হয় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস? রেল কারখানার ভিতরের এই কর্মযজ্ঞের ভিডিও দেখে বিস্মিত সবাই!
একই আশঙ্কার কথা শোনালেন ডেকার্স লেনেরই এক ফাস্টফুড দোকানের মালিক সুশান্ত হালদার। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাস ব্ল্যাক হতে শুরু করেছে। এরপর ব্ল্যাকেও পাওয়া যাবে না, সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। কী করব বুঝতে পারছি না। পুরনো কাঠকয়লায় তো আর ফিরে যাওয়া যাবে না, কারণ পরিবেশ দূষণ রোধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমাদের দোকানের উপর অনেকেই খাওয়া-দাওয়ার জন্য নির্ভর করেন। তাদের কী হবে, সেই চিন্তাই এখন ভাবাচ্ছে।”
ব্যবসায়ীদের মতে, বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ ও দাম যদি এভাবেই অনিশ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে কলকাতার স্ট্রিট ফুড ব্যবসা বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ডেকার্স লেনের মতো ব্যস্ত খাবারের পাড়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ খেতে আসেন। তাই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে তার প্রভাব পড়তে পারে শহরের খাদ্য ব্যবসা ও পর্যটন ক্ষেত্রেও।
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া।
সংস্থার প্রেসিডেন্ট সুদেশ পোদ্দার জানান, তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে অন্তত কিছুটা হলেও গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখা হয়। তাঁর কথায়, “আমরা ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি যাতে কিছু কিছু সাপ্লাই বজায় থাকে। গতকাল পর্যন্ত সাপ্লাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু আজ অনেকটাই কমে গিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, তেল কোম্পানিগুলির তরফে জানানো হয়েছে যে আগামীকাল থেকে হয়তো আর নতুন করে সাপ্লাই আসবে না। ফলে বর্তমানে যার কাছে যতটা স্টক রয়েছে, তা দিয়েই কাজ চালাতে হবে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা মারাত্মক সমস্যায় পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
