এ দিন বিধানসভায় রাজ্য বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় ঘটনার সূত্রপাত৷ রাজ্য বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ১০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে৷ বাজেটে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ আসলে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য বলে অভিযোগ করেন বিজেপি বিধায়করা৷ বক্তব্য রাখতে উঠে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার সংখ্যালঘুদের ক্রিমিনাল তৈরি করছে৷’
advertisement
অগ্নিমিত্রা পালের এই বক্তব্যের পরই বিধানসভার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ সংখ্যালঘুদের নিয়ে এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন শাসক দলের বিধায়করা৷ চলতে থাকে স্লোগান পাল্টা স্লোগান৷ ওয়েলে নেমে শাসক দলের বিধায়কদের শান্ত করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস৷
অগ্নিমিত্রাকে পাল্টা জবাব দেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ বিজেপি বিধায়কের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘুরা ক্রিমিনাল নয়। আমরা স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছি। আপনারা আমাদের ঘৃণা করেন৷ কাজি নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ তাহলে ক্রিমিনাল? আপনারা আমাদের লজ্জা। অসভ্য আপনারা।’
পাল্টা অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে সংখ্যালঘুদের অবদান নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু এই সরকার সংখ্যালঘুদের ক্রিমিনাল বানাচ্ছে৷’
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যে আপত্তি জানান স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ বিজেপি বিধায়কের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনার কথায় একটা সম্প্রদায়ের আঘাত লেগেছে। আপনি শব্দ প্রত্যাহার করুন।’ অগ্নিমিত্রার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষের কাছে আর্জি জানান তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষও৷ অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য পড়ে জানান, ‘বিধানসভার নিয়ম মেনে শাসক দলের পক্ষে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন৷ সংবিধানে সব নাগরিকের তার ধর্ম পালনের অধিকার আছে। সদনে এটা মাথায় রাখা উচিত। আমাকে অভিযোগ জানিয়েছেন অনেকে। বিধায়করা সবাই কথা বলায় সচেতন ও যত্নবান হোন৷’
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। আঘাত দিয়েছেন। আমরা আবেদন করেছি স্পিকারের কাছে। ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷’
