কলকাতা: কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে অভিযান চালানোর সময় ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি৷ প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে IPAC-এর অফিস, কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি৷ বেলা ১২টা নাগাদ পুলিশ কমিশনার এবং উচ্চ পদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে নিয়েই প্রতীক জৈনের বাড়ি পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তারপরে, ইডি অভিযান চলাকালীনই I-PAC-এর অফিসে পৌঁছন মমতা৷ ঘোষণা করেন, বিষয়টি সেটল না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রতীক জৈন সেখানে না আসা পর্যন্ত তিনি ওখানেই থাকবেন৷
advertisement
সূত্রের খবর, তল্লাশি অভিযান চলাকালীন জোর করে ক্ষমতা দেখিয়ে তাঁদের থেকে নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছে ইডি৷ ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ নিচ্ছে তারা৷ এ বিষয়ে হাইকোর্টে যাচ্ছে তারা৷ গোটা বিষয় দিল্লি আধিকারিকদেরকে জানানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এবিষয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইডি।
সূত্রের খবর, এ নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিচ্ছে ইডি। বৃহস্পতিবার দায়ের হয়নি কোনও মামলা। শুক্রবার সকাল ১০:৩০টা ফের এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের। শুক্রবার বিচারপতির পর্যবেক্ষণ দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ইডি। বিচারপতি অনুমতি দিলে শুক্রবার মামলা দায়ের হতে পারে।
বৃহস্পতিবার ‘বাধা’ দেওয়ার বিষয়ে বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে ইডি৷ বিবৃতিতে ইডি দাবি করেছে, ‘প্রতীক জৈনের বাড়িতে যেখানে তল্লাশি অভিযান চলছিল, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে আসেন এবং একাধিক নথি ও ডিজিটাল এভিডেন্স নিয়ে চলে যান। এরপর আই প্যাকের অফিসে যান। সেখানও নথি ও ডিজিটাল এভিডেন্স সরিয়ে নিয়েছেন। যা তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া বলেই দাবি ইডির৷
আইপ্যাকের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তাঁর মতে ইডির এই হানা ‘একটা ক্রাইম’। রাজ্যে এখন এসআইআরের কাজ চলছে। সেই সংক্রান্ত তথ্যও ‘ট্রান্সফার’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেই ডেকে নেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবে বিধাননগর পুলিশ। নথি চুরির অভিযোগে এই এফআইআর করা হবে বলে সূত্রের খবর।
তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বলেন, ‘‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতিক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে।’’ এর পরেই তিনি আঙুল তোলেন বিজেপির দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখিনি।’’
