পূর্ব রেল (ER) বর্তমানে নিরাপত্তা বিধির এই ক্রমাগত অবাধ্যতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। পরিকাঠামোর ব্যাপক আধুনিকীকরণ এবং নিরন্তর সতর্কতা সত্ত্বেও, দ্রুত পারাপারের লোভ রেললাইনকে দুর্ঘটনার করিডোরে পরিণত করছে।
অধৈর্যের মাশুল
advertisement
চলতি অর্থবর্ষের পরিসংখ্যান সংকটের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, পূর্ব রেলের অধীনে রেললাইনে অনধিকার প্রবেশের (Trespassing) কারণে সরাসরি মোট ১৮৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩১৯ জন আহত হয়েছেন। এগুলো কেবল সংখ্যা নয়; এগুলো এক মুহূর্তের বিচারবুদ্ধিহীনতায় ছারখার হয়ে যাওয়া এক একটি পরিবারের আর্তনাদ।
নিরাপদ যাত্রার লক্ষ্যে :
‘শূন্য দুর্ঘটনা’ (Zero Accidents) অর্জনের লক্ষ্যে পূর্ব রেল তার নেটওয়ার্ক জুড়ে নিরাপত্তার বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে:
পরিকাঠামো: জনবহুল এলাকাগুলোতে মজবুত ফুট ওভারব্রিজ (FOB), সুবিধাজনক সাবওয়ে এবং কৌশলগত আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছে।
সচেতনতা: সাধারণ মানুষকে রেললাইনে নামা থেকে বিরত রাখতে প্রতিদিন নিবিড় প্রচার অভিযান, পোস্টার ড্রাইভ এবং স্টেশনে স্টেশনে ঘোষণা করা হচ্ছে।
ভৌত বাধা: যাত্রীদের নির্দিষ্ট পারাপার পয়েন্টের দিকে চালিত করতে ফেন্সিং এবং সীমানা প্রাচীর আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আইনি কঠোরতা: রেললাইনে অনধিকার প্রবেশ কেবল বিপজ্জনকই নয়—এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া রেল চত্বরে প্রবেশ করলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয় দণ্ডই হতে পারে। ২০২৫-২৬ সালে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত), রেলওয়ে আইনের ১৪৭ ধারার অধীনে মোট ৫,৫৫৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপরাধীদের দমনে পূর্ব রেলের আধিকারিকরা ঝটিকা তল্লাশি এবং আইনি ব্যবস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিবেকের কাছে আবেদন: পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জনসাধারণের কাছে এক আন্তরিক আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “আমরা ব্রিজ তৈরি করি যাতে আপনারা বাড়ি পৌঁছাতে পারেন, আপনাদের যাতায়াতে সময় নষ্ট করতে নয়। কোনো শর্টকাটই জীবনের চেয়ে মূল্যবান নয়। আমরা প্রতিটি যাত্রীকে সাবওয়ে এবং ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি। মনে রাখবেন, আপনার পরিবার আপনার জন্য ঘরের দোরগোড়ায় অপেক্ষা করছে, প্ল্যাটফর্মে নয়।
পূর্ব রেল পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, রেললাইন দেশের পরিবহণের ধমনী হতে পারে, কিন্তু এটি পথচারীদের হাঁটার জায়গা নয়। দুই মিনিট সময় বাঁচানোর চেয়ে জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।
