দাস (Tangra Shil Lane Das Bari Durga Puja 2021) পরিবারের দুই সন্তান। দিদি চিকিৎসক মৌমিতা দাস, ভাই প্রসেনজিৎ দাস পেশায় ইঞ্জিনিয়র। মৌমিতার কথায়, 'এই পুজোয় কোনও স্বপ্নাদেশ নেই। যেটা রয়েছে সেটা হল ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতিকে ধরে রাখা। ভারতীয় পরম্পরাকে আঁকড়ে থাকা, তার চর্চা করা। দুর্গা একদিনের নন, প্রতিদিনের পূজ্য। প্রতিটি সকালেই দুর্গা নাম উচ্চারণ করতে হয়। প্রতিবার বাইরে যাওয়ার সময়ে মা-ঠাকুমারা ‘দুর্গা-দুর্গা’ উচ্চারণ করেন।' পুজো হয় কখনও রঘুনন্দনের ‘দুর্গোৎসব তত্ত্বের’ উপর ভিত্তি করে, কখনও বিদ্যাপতির লেখা ‘দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী’র নিয়মানুসারে। কখনও পুজো হয় শূলপাণির লেখা ‘দুর্গোৎসব বিবেক’ অনুযায়ী৷ রঘুনন্দন বা বিদ্যাপতির চেয়েও প্রাচীন এই বই৷
advertisement
আরও পড়ুন: শপিং-পুজোর আয়োজন শেষের পথে, শিউলির সুবাস সঙ্গে নিয়ে 'মা' আসছেন টেক্সাসে
সারা বছর দাস বাড়িতে রাধাকৃষ্ণের পুজো করেন অন্য পূজারী। দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2021) অবশ্য পুরোহিতের ভূমিকায় থাকেন বাড়ির একমাত্র ছেলে প্রসেনজিৎ দাস। আগে পূজারী হিসেবে যোগ দিতেন তাঁর দিদি, পেশায় চিকিৎসক মৌমিতা দাসও। বিয়ের পরে অবশ্য মৌমিতা আর ওই ভূমিকায় থাকেন না। এ দিন বছর আটত্রিশের প্রসেনজিৎ বলেন, '১১ বছর আগে আমি আর দিদি মিলে ঠিক করেন দুর্গাপুজো করব। তবে মহাপুজো নয়। তাঁরা পুজো শুরু করবেন কৃষ্ণপক্ষের নবমী থেকে। আরও ঠিক করেন, পুজোর সব কাজ করব নিজেরাই। তারপর থেকেই চলছে।'
আরও পড়ুন: 'বুর্জ খলিফা'র টানে যেতে হবে না দুবাই! পুজোর শহরেই দেখে নিন পৃথিবীর উচ্চতম নির্মাণ! কোথায় জানেন?
বাড়ির পুজো মানেই যে গৃহকর্তাই হবেন সবার উপরে তা কিন্তু নয়। আনন্দ পালিত লেনের কাছে শীল লেনের এই পুজোয় গৃহকর্তা প্রদীপকুমার দাস সবার উপরে রয়েছেন, কিন্তু পুজোটা ভাই-বোনের। বাড়িতে পুজোর রেওয়াজ বরাবরই ছিল। কিন্তু দুর্গাপুজো ছিল না। প্রদীপবাবুর দুই সন্তান মৌমিতা ও প্রসেনজিতের মধ্যে পুজোর প্রতি আগ্রহ ছিল ছেলেবেলা থেকেই। কিন্তু একটু বড় হওয়ার পরে সেটা অন্য ধারায় বইতে শুরু করে।
কিন্ত সব পুজো যখন শুক্লা ষষ্ঠীতে শুরু হয় তখন এখানে অন্য রকম কেন? ১৮ দিন ধরেই বা পুজো (Durga Puja 2021) কেন? প্রসেনজিৎ বলেন, 'অন্যত্র রঘুনন্দন তত্ত্ব অনুসারে পূজা হয়। রঘুনন্দন যেমন একজন স্মৃতিকার ছিলেন তেমনই আর একজন স্মৃতিকার শূলপাণি। বৃহৎ নন্দীকেশ্বর পুরাণ অনুসারে তাঁর দুর্গোৎসব-বিবেক গ্রন্থ মতে পুজো হওয়া উচিত কৃষ্ণা নবমী থেকে শুক্লা নবমী পর্যন্ত। সেই রীতি মেনেই আমরা পুজো করি।'
আরও পড়ুন: করোনার জেরে এ বারেও লকার বন্দি জয়পুর রাজবাড়ির 'সোনার দুর্গা', মন খারাপ পুরুলিয়ার
প্রসেনজিতের দিদি মৌমিতা পেশায় ডাক্তার৷ স্রেফ উৎসাহের জোয়ারে, পুজোর গভীরে পৌঁছে আরও জানার ইচ্ছায় নিজেদের পেশা থেকে বহু যোজন দূরের দুর্গাপুজো নিয়ে মেতে উঠেছেন দু’জনে৷ তাই ওঁরা নিজেরাই পুরোহিতের আসনে বসেন৷ পুজো হয় পুরাণের বিভিন্ন স্মৃতিকারদের বইয়ের বর্ণনা অনুসারে৷ উপাচারের জল, মাটি, তেল দশকর্মা ভাণ্ডার থেকে না কিনে জোগাড় করেন নিজেরাই৷
আরও পড়ুন: পুজোর সময় পাহাড়ে যেতে চান? রইল নতুন ৫ Hill Station-র হদিশ...
প্রসেনজিতের কথায়, 'আসলে দুর্গোৎসবের (Durga Puja 2021) নিয়ম খুব কড়া৷ যেমন, সকালের মধ্যেই বোধন সারতে হবে৷ বিকল্পও কম৷ তাই বাংলার পুজোয় বৃহৎ নন্দীকেশ্বর পুরাণ মেনে যাঁরা পুজো করেন, তাঁরা রঘুনন্দনকেই অনুসরণ করেন৷ উনি অনেকটাই নমনীয়৷' আবার মায়ের পুজোর নিয়ম ছত্রে ছত্রে থাকলেও চার ছেলে-মেয়ের পুজোর ব্যাপারে তেমন কোনও বিধান নেই ৷ অর্থাৎ, চ্যালেঞ্জ অনেক৷
বিশ্বজিৎ সাহা ও শুভাগতা দে
