কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচন ঘিরে সম্ভবত আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না বঙ্গ বিজেপি৷ তাই কি আবার দলের অন্দরে চলছে দিলীপ ঘোষকে ‘কাজে’ লাগানোর পরিকল্পনা? নতুন রাজ্য সভাপতি হিসাবে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পরেই অবশ্য জানিয়েছিলেন, নতুন-পুরনো সবাইে নিয়েই কাজ করবেন তিনি৷ দিলীপ ঘোষও গিয়েছিলেন সল্টলেকের অফিসে নতুন সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানাতে৷ তাঁর মুখে বরাবরের মতই ছিল দলের হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার৷ ছাব্বিশে এবার কি তবে দু’য়ে দু’য়ে চার হচ্ছে? উনিশের লোকসভা নির্বাচনের মতোই কি দিলীপকে সামনের সারিতে নিয়ে আসবে বিজেপি? নাকি রয়েছে ভোটে টিকিট দেওয়ার মতো অন্য প্ল্যান? বৃহস্পতিবার সেই সমস্ত প্রশ্নই নুন করে গেল উস্কে৷
advertisement
দলে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার পরে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ( সংগঠন ) অমিতাভ চক্রবর্তী সঙ্গে প্রথম বৈঠক করলন দিলীপ৷ জানা যাচ্ছে, আগামী ১৩ জানুয়ারি দুর্গাপুরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সভাতেও উপ্থিত থাকার কথা য়েছে তাঁর৷
তারপর থেকেই গুঞ্জন, দলে কি তবে পাকাপাকি ভাবে নয়া ইনিংস শুরু করতে চলেছেন সক্রিয় দিলীপ৷ তারই সূচনা হিসাবে এই প্রকাশ্য সভা। দুর্গাপুরে প্রথম জনসভা করবেন দিলীপ।
এদিন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘দিলীপ ঘোষ কৈশোর থেকেই এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে৷ তিনি এতদিন বসেছিলেন না তো রণকৌশল তৈরি করছিলেন। তিনি কখন মাঠে নামবেন সেটা পার্টি ঠিক করে। দিলীপ ঘোষ একইভাবে মাঠ জুড়ে খেলবে। তিনি বাড়িতে বসে থাকার লোক নয়৷ ১৩ জানুয়ারি শুধু নয় আরও কিছু সভা রয়েছে আমার। দিলীপ ঘোষ আমার সভায় থাকলে কোনও অসুবিধা আছে!’’
দিলীপ ঘোষের ৬ তারিখের কর্মসূচি ছিল ব্যারাকপুরে। এতদিন দিলীপ ঘোষ কর্মসূচি করলেও তাঁর সঙ্গে দলের সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু এবার থেকে দিলীপ ঘোষের কর্মসূচিকে রাজ্য নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুমোদন দিচ্ছে বলেই খবর। দিলীপ আবারও জানিয়েছেন, বঙ্গে বিজেপি ছাড়া আরও কোনও রাজনৈতিক বিকল্প নেই৷ ভবিষ্যতে দলের ঠিক করে দেওয়া কর্তব্যই পালন করবেন বলে জানিয়েছেন৷
দিলীপ বলেন, ‘‘অনেক কমিটি হয়েছে আমি তো জানি না। নির্বাচনের বিভিন্ন কমিটি হবে। আমি পুরোপুরি তৈরি৷ তা জানিয়েছি সভাপতিকে। যাঁরা বলছিল দিলীপ তৃণমূলে যাবে তাঁরা আবার নতুন কিছু ভাবুন৷ নতুন গল্প বানান৷ নতুন কেউ দলে এলে তাকে শিখতে হয়। পার্টি বুঝলেই হল। আমার কাউকে বোঝানোর নেই৷ মাঠে ঘাটে লড়াই করেছি, বিস্তার হয়েছে পার্টির৷ আমি এভাবে কাজে থাকতেই পছন্দ করি৷’’
আরও পড়ুন: ‘অপশক্তির কাছে মাথা নত নয়,’ প্রতিষ্ঠা দিবসে বার্তা মমতার…কাল থেকে ময়দানে অভিষেক
এরপরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ‘‘শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন যাচ্ছেন দুর্গাপুর, শুভেন্দু বললে যাবেন?’’ উত্তরে দিলীপ জানান, ‘‘যে কেউ বললেই যাব৷ আদি অন্ত বলে কিছু নেই। পার্টি পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ দেয়।’’ পাশাপাশি, আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন দিলীপ, লোকসভা হোক কি বিধানসভা, খড়্গপুরই তাঁর পছন্দের আসন৷ সেখান থেকে ভোটে লড়তে চান তিনি৷ বলেন, ‘‘আমি এবারে ছিলাম না বলে ওখানে লোকসভায় রেজাল্ট ভাল হয়নি। ওখানকার লোকেরাও চান আমি ওদের সঙ্গে থাকি। খড়্গপুরের ডেরা আমি ছাড়িনি।’’
দিলীপ ঘোষের যেসব কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। সেই কর্মসূচিতেই অনুমোদন দিল দল। জানুয়ারির গোড়ায় ব্যারাকপুরের পাশাপাশি কোচবিহারেও সভা রয়েছে দিলীপের। সেটাও দল অনুমোদন করেছে। তবে কি ছাব্বিশের নির্বাচনে আবারও বঙ্গ রাজনীতির সামনের সারিতে আসতে চলেছেন দিলীপ?
