প্রশ্ন: উত্তরবঙ্গে ভাঙন বিজেপিতে
দিলীপ ঘোষ: তিনি বিজেপির কার্যকর্তা ছিলেন না তিনি গজমমুর কার্যকর্তা ছিলেন। চিরদিন তার বক্তব্য দেখুন তিনি বিজেপির আইডিওলজি অনুসারে বলেন না এজন্য সতর্ক করা হয়েছে। যখন সমঝোতা ছিল গজমমুর সঙ্গে তখন তাকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর মত ছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করেই এসেছিলেন। এখন সেই তৃণমূলেই গেলে মানুষ বিচার করবে। উত্তরবঙ্গ আগে থেকেই শক্ত ঘাঁটি ছিল, এখনও আছে। প্রতিনিধিরা চলে যায় কিন্তু ভোটাররা থাকে, যারা ওদের জেতায়। তারাই হারাবে ওকে। তারাই আগে জিতিয়েছে এবং বিজেপিকে তারাই জেতাতে।
advertisement
প্রশ্ন: খড়্গপুরে কি আবার দিলীপ ঘোষ প্রার্থী?
দিলীপ ঘোষ: কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। প্রার্থী ঠিক করার জন্য একটা নির্দিষ্ট বডি থাকে। জেলা থেকে, রাজ্য থেকে তালিকা পাঠানো হয়, কিন্তু সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে পার্লামেন্টারি বোর্ডের হাতে। পার্লামেন্ট বা অ্যাসেম্বলি ইলেকশনের জন্য প্রার্থী বাছাই করে দলের সিলমোহর পড়লে সেই তালিকাটাই চূড়ান্ত। এর বাইরে আলাপ আলোচনা জল্পনা তো চলতেই থাকে। যারা দায়িত্বে আছেন, তারা নাম পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।
প্রশ্ন: ড্রপবক্সে দিলীপ জায়ার প্রার্থী হওয়ার আবেদন
দিলীপ ঘোষ: ফিডব্যাক নেওয়ার কোন প্রশ্নই নেই। যত নাম এসেছে সেগুলো তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই প্রার্থী করবে দল। যতদূর খবর পেয়েছি, প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাম ড্রপবক্সে পড়েছে, তার বেশিও হতে পারে। আমার স্ত্রী দলের পুরনো কর্মী। অনেকে যেমন নাম দিয়েছেন উনিও নিজের ইচ্ছা জাহির করেছেন, ভোটে লড়ব। পার্টি যোগ্য মনে করলে তাঁকে টিকিট দেবে।
প্রশ্ন: রিঙ্কুর প্রার্থী হতে চাওয়ায় আপনার সবুজ সংকেত রয়েছে?
দিলীপ ঘোষ: আমি তো ওকে কখনও বলিনি যে, রাজনীতি করতে পারবে না! রাজনীতি করো, তোমার ইচ্ছে মতো। পার্টি বাকি ডিসিশন নেবে। আমাদের আবার সংসার কী! বাড়িতে লোক আছে, মা আছে সামলাবার জন্য। রাজনীতি ও আগের থেকেই করে। আমিও আগের থেকেই করি। সেভাবেই করব। তারপরে কী হব, কী হব না, সেটা পার্টি ঠিক করবে! দুজনের আলাদা আলাদা সংসার ছিল, এখন এক হয়েছে। এবার দুজনে লড়াই করবে, পার্টির কর্মীরা লড়াই করবে। তারা পার্টির নেতাদের জেতান, এমনি কেউ জেতে না।
প্রশ্ন: এস আই আর: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা কি পিছাবে?
দিলীপ ঘোষ: যেটা খবরের শুনলাম ৮৫ লাখ লোকের ভাগ্য ঝুলে আছে। তার মধ্যে ৫০ লাখ লোকের তো কোনও তথ্যই আসেনি! আসা সম্ভব নয়, কারণ এরা সব ফলস ভোটার। জোর করে ভোটার করা হয়েছে। এজন্য বেশ কিছু অফিসারকে শোকজ করা হয়েছে। শাসক দল প্রথম থেকেই এসআইআর নিয়ে চাপে আছে। এসআইআর শুনেই জ্বর চলে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা বেরলে সেই জ্বরটা ১০২/ ৩ ডিগ্রি হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন: লক্ষ্মীর ভান্ডারের সঙ্গে যুবসাথীর কি প্রভাব পড়বে?
দিলীপ ঘোষ: দিল্লির সরকার ভোটের আগে অনেক কিছু বাড়িয়েছিল। সেভাবে জিতেও ছিল। কিন্তু পরে ভোট হল টায় টায় ফিস। মানুষ এত বোকা নয় যে দু চার টাকা নিয়ে ভোট দিয়ে দেবে। টাকা নেওয়ার নিয়ে নেবে। কিন্তু ভোট যেখানে দেওয়ার, ঠিক দেবে।
