তফসালি উপজাতি সংরক্ষিত আসনে সোনামনি টুডুর মনোনয়ন পত্র রিটার্নিং অফিসারকে গ্রহণ করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এর। শর্ত, রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীর এসটি শংসাপত্রের নথি রয়েছে কিনা তা বিবেচনা করে দেখার পরই মনোনয়নের বৈধতা দেবে।
advertisement
সোনামনি টুডুর এসটি (ST) সার্টিফিকেট ঝাড়খণ্ড থেকে প্রাপ্ত। বিয়ের পর আসেন পুরুলিয়া বান্দোয়ানে৷ সাঁওতাল সম্প্রদায়কে ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এসটি সার্টিফিকেট দেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসটি সার্টিফিকেট নেই তার। মনোনয়নে সমস্যার জন্য গত ১ এপ্রিল রাজ্যের কাছে আবেদন করে প্রয়োজনীয় সংশাপত্র পেতে। কিন্তু সংশাপত্র পেতে দেরি হলে ৬ এপ্রিলের মধ্যে তিনি মনোনয়ন জমা করতে পারবেন না। তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন, তখন সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই রাজ্যের বাসিন্দা হিসাবে ST শংসাপত্র না থাকলে তিনি সুবিধা পাবেন না বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সোনামণি।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের মন্তব্য, “সোনামণি ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বাসিন্দা।পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের সাওতাল সম্প্রদায় আলাদা নয় তো! ফলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজন নথিপত্র আছে কিনা সেটা যাচাই করে দেখবে।
মামলার শুনানিতে সোনামণির পক্ষে আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, চলতি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে সোনামণি ঝাড়্গ্রাম কেন্দ্র থেকে (ST) লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি বিবাহ সুত্রে বান্দোয়ান, পুরুলিয়ার বাসিন্দা। এখন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, কিন্তু তার এসটি সার্টিফিকেট ঝাড়খণ্ডের হওয়ার জন্য এখন মনিো জমা দিতে পারছেন না।
সোনামণির আইনজীবী জানান, রিটার্নিং অফিসার বলছেন, “বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার জন্য এ রাজ্যের স্থায়ী আদিবাসি সম্প্রদায়ের সংশাপত্র থাকতে হবে। শ্বশুর বাড়ি এবং বাপের বাড়ির দুরত্ব মাত্র ২২ কিলোমিটার। মানে জায়গাটা পশ্চিমবঙ্গর একেবারে কাছে।৬ এপ্রিল নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিন”।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সেকশন ৫ এক্ট অনুযায়ী উপজাতি সার্টিফিকেট নিয়ে সমস্যা নেই।কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে নির্দিষ্ট রাজ্যের বাসিন্দা হতে হয়,এবং সেই রাজ্যের সংশাপত্র হতে হবে। কতৃপক্ষকে জানাতে হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ রাজ্যের ট্রাইব কমিউনিটির বাসিন্দা।” রাজ্যের এজি কিশোর দত্ত বলেন, “রাজ্যের বিরুদ্ধে এখানে তেমন কিছু বলা হয়নি।এই প্রার্থী একজন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা। ফলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বলেই মনে হয়।”
