রাজ্যে রেশন দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। এবার আন্দোলনে নেমে এই বিষয়টা নিয়ে জনমত তৈরি করতে চাইছে সিপিএম। রবিবার শহরের রেশন দোকানগুলির সামনে এবং সেমবার খাদ্য দফতরের সামবে বিক্ষোভ কর্মসূচির কর্মসূচি নিয়েছে দলের কলকাতা জেলা কমিটি।
advertisement
আরও পড়ুন: কেন্দ্র থেকে যে পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করে রাজ্যকে তার অধিকাংশই চুরি যায়! পরিমাণ জাস্ট ভাবতে পারবেন না
দলের নেতা তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এর আগে সিপিএম ও বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এ রাজ্যে রেশন ব্যবস্থায় মারাত্মক দুর্নীতি হয়েছে। গরিব মানুষ যাদের রেশন থেকে খাদ্যদ্রব্য পাওয়ার কথা তাঁরা বঞ্চিত হয়েছে। ভুয়ো রেশন কার্ডে জিনিস তোলা হয়েছে। গরিব মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁদেরকে খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না এরকম অখাদ্য জিনিস পরিবেশন করা হয়েছে রেশনের মাধ্যমে। আর এই সমস্ত মাল পাচার হয়েছে দুর্নীতি হয়েছে তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের মাধ্যমে। আমরা বারে বারে এই অভিযোগ করে এসেছি। এমনকি কোভিডের সময়ও এই একই অভিযোগ আমরা উত্থাপন করেছি। আজকে ইডি তদন্ত করছে, তার মধ্যে দিয়ে সত্যটা মানুষ জানতে পারছে। মানুষের সামনে সত্যটা এসেছে। আসলে এই তৃণমূল সরকার চলছে এটা একটা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার। শুধু তো রেশন দুর্নীতি না। শিক্ষা দুর্নীতি, পুরো নিয়োগে দুর্নীতি, সারদা, নারদ সমস্ত ক্ষেত্রে একটা দুর্নীতির সরকার চলছে। গোটা তৃণমূল দলে যারা নেতা মন্ত্রী রয়েছেন তারা দুর্নীতিগ্রস্ত। এবং তৃণমূল কংগ্রেস যারা রয়েছে তারও দেখতে পাচ্ছে এই মন্ত্রী নেতা তাদের স্ত্রী কন্যা পুত্র পরিবার তাদের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে। এবং তারা সমস্তটা আত্মসাৎ করেছে। এটা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষও দেখতে পাচ্ছে। যেমন একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রী যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের শাস্তির দাবি করছি। এবং পাশাপাশি বঞ্চিত মানুষ যাদের বঞ্চিত করে এই দুর্নীতি হয়েছে তাঁদের ক্ষতিপূরণ তারা যাতে সঠিকভাবে জিনিসপত্র পায়। তারা যাতে উপযুক্ত পরিষেবা পায় এটা হচ্ছে আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় কথা। আমরা যখন সারদা দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তির দাবি করেছিলাম তখন আমাদের মূল বিষয়টা ছিল যে সারদা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই আমানতকারীরা তাদের টাকা যেন ফেরত পায়। এখনো পর্যন্ত তদন্ত শেষ হলো না। এবং আমরা বঞ্চিত মানুষ যে যেখানে বঞ্চিত হয়েছে যাদের বঞ্চনা করেই দুর্নীতি হয়েছে সেই দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি এবং বঞ্চিত মানুষকে তাদের ক্ষতিপূরণ এবং তারা যাতে পরিষেবা ঠিকভাবে পায় তার দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন করে চলেছি। যেহেতু রেশনের ঘটনাটা ঘটেছে এই কারণে আমরা রবিবার সকালবেলা কলকাতা শহরে রেশন যে দোকানগুলো আছে সেই দোকানের সামনে আমরা বিক্ষোভ দেখাবো। এবং একই সঙ্গে খাদ্য দপ্তর যেহেতু খোলা ছিল না সোমবার দিন আমরা দুপুর বেলা খাদ্য দপ্তরের সামনে একই রকম ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করব। দোষীদের শাস্তির দাবি করব।”
আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনের হেফাজতের নির্দেশে দেওয়া হয়েছে রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। এদিকে আদালতে শুনানি চলাকালীনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বালু। সওয়াল জবাবের সময় ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইডি হেফাজতের নির্দেশ শুনেই হঠাৎ বসে পড়েন মন্ত্রী। অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাম্বুল্যান্স বলে চিৎকার শুরু হয় আদালত কক্ষে। ছুটে যান মন্ত্রী কন্যা। এরপরেই মন্ত্রীর পরিবারের ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়।
