ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, "আমরা ভেবেছিলাম যে বামফ্রন্ট সরকারের ভূমি সংস্কার ও অন্যান্য জনকল্যাণমুখী নীতির কারণে আমরা সংখ্যালঘু আদিবাসী এবং অন্যান্য প্রান্তিক অংশের মানুষের সমর্থন পাবো।" ইতিহাস টেনে এনে পার্টি লেটারে লেখা হয়েছে, "নন্দীগ্রামের ঘটনাবলীর সময় আমরা কৃষি আমাদের ভিত্তি আর শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ স্লোগান দিয়েছিলাম যে স্লোগান আমরা বর্তমান নির্বাচনেও প্রচার করেছি। কিন্তু এই সময় এই স্লোগান মানুষকে জমি অধিগ্রহণ নীতির সময় কালের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। যার ফলে বামফ্রন্ট থেকে গ্রামীন মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।" কেন ভুল বুঝল মানুষ তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে সিপিএম-এর মনে হয়েছে, শিল্পকে এগিয়ে রাখা এবং রাজধানীর বুকে সমান্তরালে চলা কৃষি আন্দোলন-ব্যাপারটা মানুষই ভালো চোখে দেখেনি। তাই বলা হয়েছে, "বর্তমান সময়ের গভীর কৃষি সংকট ও কৃষি আইন বাতিল, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রাপ্তির ন্যায্য অধিকার, কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ বিশেষত জমি মাফিয়াদের হিংস্র আক্রমণের বিরুদ্ধে যে কৃষক আন্দোলন চলছে- এই পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের যে কোনও কথা কৃষক সমাজের সঙ্গে আমাদের বিচ্ছিন্ন তাকে শুধু গভীরতর করেছে।"
advertisement
বলাই বাহুল্য সিপিএম আসলে ২০০৬ সালের ভূত দেখছে। অনেকেরই মনে থাকবে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার পড়েছিল- বুদ্ধ আসছে জমি কাড়তে। অর্থাৎ জমি অধিগ্রহণ ভাবনাকে সে সময়ে সিপিএমের পোস্টার-বয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার করেছিল বিরোধীরা। এই পোস্টারের ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল গ্রামাঞ্চলে। সে সময়েই পায়ের তলা থেকে মাটি সরতে শুরু করে বামেদের। সর্বোপরি সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলন ২০১১ সালের সিপিএমকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।
এ কথা ঠিক ভূমি সংস্কার আন্দোলন বা হাতে হাতে জমির পাট্টা বাংলার মানুষের মনে সিপিএম-কে পাকা জায়গা দিয়েছে। কিন্তু সিপিএম আবার কোণঠাসাও হয়েছে সেই জমি নীতির কারণেই। ফলে এখন এই পরিস্থিতিতে সিপিআইএম চাইছে, আরও সতর্ক হতে। অন্তত জমির প্রশ্নে যাতে কোন ভুলবোঝাবুঝি মানুষের মনের না থাকে তা সুনিশ্চিত করতেই এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিল দল।
