সি ভি আনন্দ বোসের এই আচমকা পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর ইস্তফার কারণ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে৷ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে সি ভি আনন্দ বোসকে৷
ইস্তফা দেওয়ার পর নিজের পদত্যাগের কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি আনন্দ বোস৷ কলকাতায় ফিরলেও রাজ ভবনে আর পা দেননি তিনি৷ এ দিন পদত্যাগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললেও এই সিদ্ধান্তের পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশাই রেখে দিলেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল৷
advertisement
এ দিন কলকাতায় নিজের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন আনন্দ বোস৷ চাপের মুখে তাঁকে পদত্যাগ করতে হল কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে আনন্দ বোস বলেন, ‘আমি চাপে পড়ে পদত্যাগ করেছি কি না সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না।’ ধোঁয়াশা বাড়িয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার রক্তচাপ সম্পর্কে জানতে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম৷ উনি জানিয়েছেন ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিকই রয়েছে৷’
রাজ্যপাল থাকাকালীন কিছুদিন আগেই রাজভবনের নাম বদলে লোক ভবন রেখেছিলেন সি ভি আনন্দ বোস৷ ইস্তফা দিয়ে কলকাতায় ফেরার পর অভিমানেই তিনি আর সেই লোক ভবনে পা রাখেননি বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে৷ এ বিষয়ে সি ভি আনন্দ বোস বলেন, ‘যতদিন রাজ্যপালের পদে ছিলাম লোক ভবনে থাকতাম। আমি মানুষের মাঝে মানুষের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করি, তাই অন্য জায়গায় আছি।’
রাজ্যপালের পদ ছাড়লেও তিনি আবারও বাংলায় ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আনন্দ বোস৷ তাঁর কথায়, ‘আমি এতদিন এখানে কাজ করেছি৷ বাংলার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমি বারবার বাংলায় ফিরে আসবো, বাংলার মানুষের সঙ্গে কথা বলব, দেখা করব। কেরলের সঙ্গে বাংলাকেও আমি নিজের ঘর মনে করি। আমি বাংলাকে ভালবাসি।’
সি ভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, বাংলা ছাড়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি৷
