ফাটল বিপজ্জনক নয় বলে আশ্বাস দিলেও, ভয় ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না ফাটল ধরা বাড়ির বাসিন্দারা। শুক্রবার সকাল থেকেই দুর্গা পিতুরি লেনে আসেন কেএমআরসিএল চিফ ইঞ্জিনিয়ার-সহ একাধিক আধিকারিক । কথা বলেন বাসিন্দাদের সঙ্গে। সুকল্যাণ দত্ত, এই বাড়ি আগেই সংষ্কার করা হয়েছে। নতুন বাড়িতে ফাটল ধরা পড়ায় চিন্তিত তারা। ফাটল ধরা বাড়িতে বসানো হয় ক্র্যাক মিটার। এই মিটার বসানোর কারণ, ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য। বসানো হয় টিল্ট মিটার, বাড়ি কোনওভাবে হেলে পড়ছে কিনা তা বোঝার জন্য।
advertisement
আরও পড়ুন-আজও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়, জেনে নিন আবহাওয়ার আপডেট
এ ছাড়া বিভিন্ন বাড়িতে কাঠের বল্গা বা লোহার স্ট্যান্ড ক্লিপ দিয়ে ছাদের সিলিং আটকে রাখা হয়েছে। যেখানে যেখানে ফাটল ধরেছে বলে অভিযোগ, সেই সব জায়গায় এদিন চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে নজর রাখা হবে ফাটল বাড়ছে কিনা! ইঞ্জিনিয়াররা আসলেও চিন্তা মুক্ত হতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন অনেকেই বলেন, ‘‘আপনাদের খবর হওয়ার পরে জানতে পারল যে বাড়িতে ফাটল রয়েছে। এদিকে এখান দিয়েই তো ইঞ্জিনিয়ার সবাই যাতায়াত করেন। তাদের তো নজর রাখা উচিত ছিল।’’ একই অভিযোগ শেলী ভৌমিকের।
তিনি বলেন, ‘‘যার বাড়ি নষ্ট হয়েছে তারাই বুঝতে পারবেন তাদের কষ্ট। কিছুদিন আগেই তো, এই বউবাজারের বাড়ি ভেঙে পড়েছে। আমার বাড়ি যে ভেঙে পড়বেনা সেই দায়িত্ব কে নেবে?’’ এলাকার আরেক বাসিন্দা চিন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মেনে নিলাম ফাটল না হয় খুব একটা বিপজ্জনক নয়। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারদের তো এসে আমাদের বোঝানো উচিত। কথা বলা উচিত ছিল আমাদের সঙ্গে। আমরা তো আর ইঞ্জিনিয়ার নই।’’
আরও পড়ুন-৭ বছর আগে মোদি শুরু করেছিলেন এই সব সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প; জনপ্রিয়তা এখনও অটুট
এরকমই নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়িয়েছে বউবাজারের অন্দরে। যদিও কেএমআরসিএল পরিদর্শনের পর তাদের দাবি, এই ফাটলগুলো বিপজ্জনক নয়। আফটার এফেক্ট কিছু ক্র্যাক হতে পারে। ক্র্যাকগুলো মার্ক করে নজর রাখা হবে। আফটার এফেক্ট-এর টাইম ওভার হয়ে গেলে সব বাড়ি সারানো হবে। বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী সারানো হবে। ওই ক্র্যাক থেকে বউবাজারের মত ঘটনা ঘটবে না। এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে এরকম একটা হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হবে।। সেখানে তারা বাড়িতে কিছু হলেই জানাতে পারবে। আপাতত এই আশ্বাসেই দিন কাটাচ্ছেন বউবাজারের একাধিক বাড়ির বাসিন্দারা।
