রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার অবসর নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ এবার রাজীব কুমারেরই সতীর্থ, পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আর এক প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমারকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করল বিজেপি৷ জগদ্দল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে রাজেশ কুমারকে৷
বিজেপি-র দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকায় রাজেশ কুমারের নাম অনেকেরই নজর কেড়েছে৷ প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসারের শিক্ষাগত যোগ্যতাও তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো৷ ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া এবং ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়ার ফেলো মেম্বার রাজেশ ফিনান্স নিয়ে পিএইচডি করেছেন৷ এ ছাড়াও ফিনান্স এবং মানব সম্পদ বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রিও রয়েছে তাঁর৷
advertisement
আইন প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত এই ধরনের অভিজ্ঞতার বিরল সংমিশ্রণই রাজেশ কুমারকে তাঁর সমসাময়িক অনেক আইপিএস অফিসারের থেকে আলাদা করেছিল৷ সুদীর্ঘ কর্মজীবনে একদিকে যেমন তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব সামলেছেন, আবার পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য সচিব হিসেবে এবং পরিবেশ দফতরের প্রধান সচিব হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন রাজেশ কুমার৷ কর্মজীবনে নিজের দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদক, মুখ্যমন্ত্রীর পদক পেয়েছেন রাজেশ কুমার৷
সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে নিযুক্ত করার জন্য তাঁর নাম বিবেচনা না করায় ইউপিএসসি-র সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (ক্যাট)-এ মামলাও করেছিলেন রাজেশ কুমার৷ ঘটনাচক্রে রাজীব কুমারের সঙ্গে একই সঙ্গে অবসর নেওয়া রাজেশ কুমারও পা রাখলেন সক্রিয় রাজনীতিতে৷ অনেকেই রাজেশ প্রার্থী করার মধ্যে দিয়ে বিজেপি রাজীব কুমারকে সংসদে পাঠানোর পাল্টা চাল দিল বলেই মনে করছেন৷ দ্বিতীয় তালিকায় সিনেমা এবং টেলিভিশন জগতের বেশ কয়েকজনকে প্রার্থী করেছে বিজেপি৷ তাঁদের পাশাপাশি রাজেশ কুমারের মতো আইন এবং প্রশাসনিক বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা মুখকে প্রার্থী করে বিজেপি নিজেদের প্রার্থী তালিকায় অনেকটাই ভারসাম্য রক্ষা করল বলেও মত রাজনৈতিক মহলের৷
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন৷ যদিও ভোট মেটার পরেই তাঁকে নগরপালের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ যদিও সেবারের নির্বাচনে রাজেশ কুমারের নেতৃত্বে ভোটের সময় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা সব মহলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছিল৷
রাজেশ কুমার অবশ্য প্রার্থী হয়ে জানিয়েছেন, অবসরের পরেও রাজীব কুমারের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে৷ বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘আমরা ব্যাচমেট পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে ৩৫ বছর ধরে ছিলাম৷ দু জনে একসঙ্গে অবসর নিয়েছি৷ আমার বন্ধু নিশ্চয়ই শুভেচ্ছা পাঠাবে৷ সবসময় কথা হয়৷ ও একটা জনসেবার খুব ভাল প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে৷ আমিও একটা পেয়েছি৷’
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে রাজ্যসভার ভোটে ইতিমধ্যেই সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন রাজীব কুমার৷ রাজেশ কুমার বিধানসভায় পা রাখতে পারেন কি না, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে৷
