তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিন শোভন চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হতেই নিজাম প্যালেসে হাজির হন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় (Ratna Chatterjee)। বৈশাখীর সঙ্গে শোভনের 'ঘনিষ্ঠতা' যত বেড়েছে, দূরত্ব বেড়েছে রত্নার সঙ্গে। দিন কয়েক আগেও শোভন-বৈশাখী বনাম রত্না সংঘাতে সরগরম থাকত সংবাদমাধ্যম। সেই রত্না আজ নিজাম প্যালেসে পৌঁছে বলেন, 'শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির লোক হিসেবে এসেছি। দেখি ওরা কী বলে...' রত্নার আগমনের পরই খোঁজ শুরু হয়, বৈশাখী কোথায়?
advertisement
দুপুর নাগাদ বৈশাখীকে ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, 'নিজাম প্যালেসে আছি। একদিকে গণতন্ত্রের চরম অপমান করল বিজেপি। অপরদিকে, যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী এসে সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা একটা নিদর্শন। এ রাজ্যের কারও উপর আক্রমণ নেমে এলে যে তিনিই এগিয়ে আসবেন, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। গোটা দেশের কাছে বিজেপি নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিল, দুটো তোতাপাখি বসিয়ে রেখেছে।' বস্তুত এদিন বৈশাখী কথা শুধুই মমতা-ময়। তৃণমূল নেত্রী কোনও আন্দোলনের ডাক দিলে যাবেন? বৈশাখীর উত্তর, 'উনি বললে নবান্নে ওনার চটিও রেখে আসতে পারি। শোভনের পাশে যেভাবে উনি এসে দাঁড়ালেন, ওনার জন্য আমি প্রাণ দিতেও প্রস্তুত।'
তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করেছে সিবিআই। এটা কি বিজেপির প্রতিহিংসা? বৈশাখীর জবাব, 'নন্দীগ্রামে কারও (পড়ুন, শুভেন্দু অধিকারী) জয় নিয়ে শোভন বাবু যখন প্রশ্ন তুলেছিলেন বা আমরা যখন বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম, তখনই বুঝেছিলাম এবার খাঁড়া নেমে আসতে পারে। এখন অবশ্য তা নিয়ে ভাবছি না। মুখ্যমন্ত্রী পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, শক্তি পাচ্ছি।'
একইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই ধরনের প্রতিহিংসার জন্য বাংলার মানুষের কোনও ক্ষতি হলে বিজেপিকেই দায় নিতে হবে বলে দাবি করেছেন বৈশাখী। তাঁর কথায়, 'যে সময় এটা করা হল, পুর প্রশাসককে এনে গ্রেফতার করল। করোনায় এরপর যে'কটা মৃত্যু হবে, তার দায় বিজেপিকেই নিতে হবে।'
