বৈঠক শেষে বেরিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘১১:৪৫ থেকে ১২টার মধ্যে ডাকা হয়েছে। একদম শেষ দফায় ডাকা হয়েছিল। আমার সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম ছিলেন এবং রাজীব কুমার৷ আমরা বলেছি, আপনার কাছে আমরা বহুবার গেছি। বহুবার সমস্যার কথা বলেছি। সমস্যা যেগুলো রয়েছে আপনারা সেই পথে হাঁটছেন না। ৬৩ লক্ষ ভোটার বাদ দিয়েছেন। ফর্ম 6 জমা পড়েছে ৬ লক্ষের বেশি। সেই জায়গায় নাম যোগ হয়েছে ১ লক্ষ। ডিলিশন হচ্ছে ৫ লক্ষ।’’
advertisement
আরও পড়ুন :৭-৮ দফায় নয়! ১ থেকে ২ দফায় ভোট করাতে চায় বিজেপি, কমিশনের কাছে ১৬ দফা দাবি জগন্নাথদের
শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা অভিযোগ করেন, ‘‘আগে বেশি ছিল মেয়েরা৷ এখন কমে গেছে৷ মহিলারা টার্গেট করছে৷’’ চন্দ্রিমার অভিযোগ এই সমস্ত কথা বলতে গেলেই কমিশনের তরফে উত্তর আসে, ‘‘সুপ্রিম কোর্টে গেছেন। আপনাদের কিছু করার নেই।’’ চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘ আমাকে বলছে ডোন্ট সাউট। আমি একজন মহিলা ভাবুন আমার উপর চিৎকার করছে। আমি একজন মহিলা, আমাকে বলছে dont shout৷’’
চন্দ্রিমার প্রশ্ন ‘‘সুপ্রিম কোর্ট গেছি বেশ করেছি। মহিলাদের উপর চিৎকার আপনি দেখে নেবেন৷ বলছে সব সুপ্রিম কোর্টে আছে (এসআইআর শেষে ভোটার তালিকার বিষয়)। আমাদের কথা শুনতে রাজি নয়। সুপ্রিম কোর্টে গেছে ঠিক হয়েছে, গেছি। কেন নাম নেই, কেন বলছেন সবাই? Ero, deo দের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা দফার ভোটের আলোচনা নয়?’’
তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ফিরহাদ হাকিমও৷ বৈঠক শেষে ফিরহাদের বক্তব্য, ‘‘আমি জানি আপনি কে? বিজেপি মাইন্ডসেট করেছে রোহিঙ্গা আছে। সেই ধারণা সেটা তৈরি করা হয়েছে। আপনদের এই প্রসেসে কটা রোহিঙ্গা পেয়েছেন? এই প্রসেস যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের দায়িত্ব কে নেবে? বিজেপি একটা পার্সেপশন তৈরি করেছে অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা আছে। কিন্তু, প্রমাণ করতে পেরেছেন? কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অসুস্থ হয়েছে এইগুলোর দায় কে নেবে? বিজেপি-এর কথায় তালিকা তৈরি করেছেন৷ এটা ভুল হয়েছে। আপনার ভুল হয়ে গেছে। অনুরোধ করব, যাতে কোনও বৈধ নাগরিক ভোটেধিকার থেকে বাদ না পড়ে৷’’
আরও পড়ুন :কতদূর এগোল ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ ভোটারদের কাজ? রাজ্যে এসেই খোঁজ নিলেন জ্ঞানেশ কুমার
কমিশনের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ফিরহাদ বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে কত বার আপনাদের কাছে গেছি। কেন যাব না সুপ্রিম কোর্টে? under adjudication এ এত নাগরিক কে ফেলে দিয়েছে, অধিকার আছে তাই আমরা সুপ্রিম কোর্টে গেছি।’’
রবিরার রাতেই রাজ্যে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের ১২ সদস্যের ফুল বেঞ্চ৷ এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার৷ সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা৷ এদিন শুরুতেই ডাকা হয়েছিল বিজেপির প্রতিনিধি দলকে৷ বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে আধ ঘণ্টা বিস্তারিত কথা হয়েছে কমিশনের ফুল বেঞ্চের৷ ভোট ১-২ দফায় করা সহ রাজ্যের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ১৬ দফা দাবি পেশ করেছেন তাঁরা৷
বিজেপির পরেই প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলে কমিশন৷ তারপরে বামফ্রন্ট৷ শেষে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসর প্রতিনিধি দল৷
