আরজি কর দুর্নীতি সংক্রান্ত সিবিআই মামলায় আদালত ফের কড়া অবস্থান নেয়। আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং ধারাবাহিকভাবে হাজিরা এড়ানোর অভিযোগে আগেই আখতার আলির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার তাঁর আত্মসমর্পণের ইচ্ছেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইনজীবী মহল।
সুখবর! ‘৪ রাশি’ টাকার গদিতে চড়বে! বুধ প্রবেশ করছেন শতভিষা নক্ষত্রের দ্বিতীয় অবস্থানে
advertisement
নতুন দল ক্ষমতায় এলে এই প্রতিশ্রুতি পূরণে হিমশিম খাবে! রাজ্যের বাজেটকে কটাক্ষ অশোক লাহিড়ির
এই মামলার মধ্যেই তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। আরজি কর দুর্নীতি মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। ইডি-র বিশেষ আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সন্দীপ ঘোষের। পাশাপাশি অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরাকেও। একই সঙ্গে সুমন হাজরার মালিকানাধীন হাজরা মেডিক্যালের বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
এই প্রথমবার আরজি কর দুর্নীতি মামলায় ইডি চার্জশিট পেশ করায় তদন্ত একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিটে আর্থিক তছরুপ এবং বেআইনি লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক ধারার উল্লেখ রয়েছে। এর ফলে মামলায় অভিযুক্তদের আইনি চাপ আরও বেড়েছে বলে মত আইন ও প্রশাসনিক মহলের।
এর আগে শুনানির সময় আখতার আলির আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেল অসুস্থ। আগাম জামিনের আবেদন ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে খারিজ হয়েছে। আইনজীবীর দাবি ছিল, আখতার আলি আন্দুল রোডের ইন্দাস নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসক তাঁকে বেড রেস্টের পরামর্শ দিয়েছেন। সেই কারণেই আদালতে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে সময় চাওয়া হয়।
এই যুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারক প্রশ্ন তোলেন, বেড রেস্টের পরামর্শ থাকলে কেন নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হল। আদালতের মন্তব্য ছিল, “আপনার ক্ষমতা আছে, নার্সিংহোমকে কেন বিপদে ফেলছেন?” একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, অসুস্থতার এই যুক্তিতে তারা সন্তুষ্ট নয়।
সিবিআইয়ের তরফে আদালতকে জানানো হয়, আখতার আলি ইচ্ছাকৃতভাবেই আদালতের হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জামিন খারিজ হওয়ার ঠিক পরেই ৬ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়াকে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করে সিবিআই দাবি করে, আদালতের নির্দেশ এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
শুনানির সময় আর এক অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীও আদালতে বিষয়টি তোলেন। তিনি জানান, সন্দীপ ঘোষ জেলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, অথচ আখতার আলি দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলেছেন। তাঁর দাবি, আখতার আলি গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এবং আদালতের আদেশ এড়াতে মরিয়া চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি আখতার আলিকে গ্রেফতার করে সিবিআই হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান।
এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আখতার আলির আত্মসমর্পণ এবং ইডি-র চার্জশিট—দু’দিক মিলিয়ে আরজি কর দুর্নীতি মামলায় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার হল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
