নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে নিজের লেখা কবিতা পোস্ট করেন অভিষেক। লেখেন,
“আমি অস্বীকার করি।
আমি অস্বীকার করি -এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব। আমি অস্বীকার করি- রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি- রক্তের উপর কালির শাসন।
আমাদের বলা হল – “নাম দাও”, “কাগজ দেখাও” আর আমরা দিলাম ইতিহাস, মাটি, আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি।
advertisement
তারা বলল – “এগুলো যথেষ্ট নয়” আমরা বললাম তবে বলো কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল?
১৫০ (একশো পঞ্চাশ) – এটা সংখ্যা নয়, এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার। এ এক থেমে যাওয়া গান। এক মুছে যাওয়া মুখ। রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান, শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।
যে দেশ জন্মেছিল আপোষহীন আন্দোলন ও প্রশ্নের আগুনে সে দেশ নোয়াবে না মাথা ধর্মের শাসনে। নাগরিকত্ব যদি বন্দি হয় কাগজের জালে তবে মানুষ যাবে কোথায় সংবিধানের কালে? যে আইন মানুষ ছেঁটে ফেলে, মানুষের প্রাণ নেয় কেড়ে সে আইন; আইন নয় সে আইন ফাঁসি।
আমি শান্তি চাই না অন্যায়ের সঙ্গে! আমি নীরবতা চাই না লাশের উপর! যারা চুপ থাকে এই মুহূর্তে, তারাই ইতিহাসে অপরাধী স্তব্ধ স্বর আমি শুধু একজন মানুষ নই – আজ আমি সাক্ষী, আর সাক্ষী যখন কথা বলে সিংহাসন তখন কাঁপে।
আর ইতিহাস সে ক্ষমা করে না, তালিকা পড়ে না। ইতিহাস মনে রাখে কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল, কে দাঁড়িয়েছিল, আর কে আগুন লাগিয়েছিল! যে শাসক অহঙ্কারে কথা বলে যে শাসক মানুষের কথা শোনে না যে ক্ষমতা মানুষকে তুচ্ছ করে, ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।“
এর আগে SIR নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে। অভিষেকের লেখা কবিতাকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি শিবির। বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন,
‘অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আজ প্রতিবাদী কবিতা লিখেছেন। তিনি কবিতার ভাষায় সময়োপযোগী লেখা দিয়েছেন। কবিতা দিয়েও প্রতিবাদ করা যায়। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতায় লড়াই সংগ্রাম উঠে এসেছে। তাঁর লেখা একজন দক্ষ লেখকের মতো। শক্তিশালী কলম। কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল, এমন লাইন সময়ের দলিল। বিষয়ের গভীরতা আছে। বিজেপি এটা নিয়ে রুচিহীন কথা বলছে। অভিষেক তরুণ তুর্ক নেতা। আত্মহত্যার মিছিল চলছে। মানুষ হেনস্থা হয়রানির শিকার। সেই স্থানে অভিষেকের কবিতা নিয়ে এত গায়ের জ্বালা কীসের বিরোধীদের।’
