তিনি বক্তব্য শুরু করার কিছুক্ষণ আগেই নির্বাচন কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এই কোভিড পরিস্থিতির জন্য মাদ্রাজ হাইকোর্টের তরফ থেকে কমিশনকেই দায়ী করে বলা হয়েছে যা হয়েছে তা খুনের শামিল। মমতা তাই বক্তব্যের শুরুতেই সেই রায় সামনে আনলেন। আগাগোড়া সুর চড়ালেন কমিশনের পরিকল্পনার অভাব ও পক্ষপাত নিয়ে। মমতা এদিন বলেন, মাদ্রাস হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। হাইকোর্ট স্পষ্ট বলেছে, নির্বাচন কমিশন দায় এড়াতে পারে না। নির্বাচন কমিশনকে তৃতীয় দফা থেকে বলছি সংযুক্তিকরণ চাই। কমিশন শোনেনি, কারণ ভোট হয়েছে বিজেপির মণ্ডল ধরে।
advertisement
মমতার সাফ যুক্তি কেরল এক দফায় ভোট, তামিলনাড়ুতে এক দফায় ভোট আসাম দুই দফায় ভোট, তাহলে বাংলায় আটটা দফা কেন? দ্ব্যার্থহীন ভাষায় তিনি বলে দিলেন, কোভিড বা়ড়িয়েছে কমিশন ও নরেন্দ্র মোদি পাশাআশি এদিনও শোনা গেল তাঁর হুঙ্কার, 'ভোটের পর সুপ্রিম কোর্ট যাব'।
ভিনরাজ্য থেকে আরটিপিসিআর টেস্ট ছাড়াই বাহিনী নিয়ে আসা এবং জেলায় জেলায় ভিড় বাড়ানোই মমতার মাথাব্যথা। আজ তিনি একের পর এক অভিযোগ করে বলেন, তিনমাস ধরে কলকাতায় বাহিনী আছে। বিভিন্ন জেলায় গিয়ে কোভিড ছড়াচ্ছে। স্কুল-কলেজ-স্টেডিয়াম দখল করে রেখেছে। আরটিপিসিআর টেস্ট হচ্ছে না।
এরই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের অপব্যবহাররের তুললেন এদিনও। তাঁর কথায়, "সায়নী (আসানসোলের প্রার্থী) বলছে, পোলিং এজেন্টদের বাড়ি গিয়ে পুলিশ বলছে ভোট দিতে যাবে না। সব ক'টা সিটে হারবে, দালালি করেও। আমি কাঠগড়ায় দাঁড় করাব ইলেকশান কমিশনকে। মোদি এবং কমিশন দুই পক্ষই দায়ী।" মমতার কথায়, "একদিকে কোভিড, একদিকে জুলুম হচ্ছে"।
করোনার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে কেন্দ্রকেই দায়ী করছেন মমতা, সুর চড়ল আজও। বললেন, "মানুষ বিপদে, গণচিতা জ্বলছে, নরেন্দ্র মোদি আত্মনির্ভরতার কথা বলছে। অক্সিজেন নেই, মেডিসিন নেই, ভ্যাকসিন নেই, কোথায় গেল, মোদিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছি, কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছি।"
এই অসম লড়াইটায় জিততে তাই তার ভরসা বাংলার মানুষের বাঙালিয়ানারল আস্থা, রাজনীতির পরিভাষায় সাব ন্যাশানালিজম। মমতা তাই আজ এই শেষবেলায় বলে গেলেন, "বাংলাই একমাত্র জায়গা যারা প্রতিবাদ করতে পারে। বাংলার মেরুদণ্ড ভাঙতে চায়। আমরা বাংলার মেরুদণ্ড ভাঙতে দেবো না। এটা বাংলাকে রক্ষা করার লড়াই। সবাই তাকিয়ে আছে বাংলার দিকে। বাংলা বাঁচলে সারা ভারতবর্ষ জোট বাঁধবে বিজেপির বিরুদ্ধে।"
প্রশ্ন হল আবেগ ব্যলটবক্সে দানা বাঁধবে তো?
