জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৬ মার্চ থেকে এই বিচারকেরা নতুন জেলায় অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ শুরু করবেন। সেখানে বিভিন্ন মামলার অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়গুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব তাঁদের উপরই থাকবে।
হাইকোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিচার ব্যবস্থার কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাগুলিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারকেরা অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ পরিচালনা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন প্রায় ৫৩ লক্ষ নামের নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ ১৬ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
advertisement
‘হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে!’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম মুখ খুলেই কড়া অবস্থান মোজতবার
ট্রেনে উঠেই এই দুই মহিলা যা করতেন…! বিরাট অভিযোগ সামনে আসতেই মাঠে নামল RPF
এসআইআর মামলার শুনানিতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, ‘‘জুডিশিয়াল অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমরা আমাদের কড়া অবস্থান জানাচ্ছি।’’ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আধিকারিকদের প্রযুক্তিগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ৫০০-র বেশি এবং ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ২০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এসআইআর প্রক্রিয়ার তদারকির কাজ করছেন। তবে তাঁদের জন্য তৈরি করা লগইন আইডি সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা আদালতে ওঠে। কমিশন জানিয়েছে, এটি কমিশনের স্তরের ভুলের কারণে হয়েছে এবং দ্রুত তা সংশোধন করা হবে।
শীর্ষ আদালত আরও জানায়, কলকাতা হাইকোর্ট এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের যাতে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকেও।
এর পাশাপাশি আদালত জানায়, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা নির্বাহী কর্তাদের কাছে আপিল করা যাবে না। সেই জন্য আপিল শোনার উদ্দেশ্যে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অন্য বিচারপতিদের নিয়ে একটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করবেন। প্রয়োজনে ভিন রাজ্যের বিচারপতিরাও সেখানে থাকতে পারবেন।
এই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে মানতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে শীর্ষ আদালত। ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও বিচারপতিদের সম্মানী এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং সমস্ত খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে হাইকোর্ট প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় অ্যাডজুডিকেশন সংক্রান্ত কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তাই ওই দুই জেলা থেকে ১৭ জন বিচারককে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে তাঁরা অন্য জেলাগুলিতে অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ শুরু করবেন।
