৫ অগস্ট ২০২৪-এ ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি “জাতির আত্মার কলঙ্ক”। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে এবং তারপর থেকেই বাংলাদেশ এক “ভয়ের যুগে” প্রবেশ করেছে, যেখানে গণতন্ত্র নির্বাসিত, মানবাধিকার পদদলিত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ, নারী ও কন্যাশিশুর উপর নির্যাতন বেড়েছে এবং সংখ্যালঘুরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন।
advertisement
একটি বিষধর সাপ যদি আর একটি বিষধর সাপকে কামড়ায়, তাহলে কী হয়? সব বিষই কি মৃত্যুর কারণ হয়?
বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, আজ বাংলাদেশ এক গভীর অতল গহ্বরের প্রান্তে দাঁড়িয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের দেশ আজ চরমপন্থী ও বিদেশি শক্তির আঘাতে রক্তাক্ত। গোটা দেশ যেন এক বিশাল কারাগার, হত্যাক্ষেত্র ও মৃত্যুর উপত্যকা।”
ইউনুস প্রশাসনকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, এই সরকার দেশের জমি ও সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করার ষড়যন্ত্র করছে, যার ফলে বহুজাতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে ইউনুসকে “ক্ষমতালোভী ও দুর্নীতিগ্রস্ত” বলেও আক্রমণ করা হয়।
আওয়ামি লিগকে স্বাধীন বাংলাদেশের “সবচেয়ে পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ দল” হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই দলই গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও সংবিধানের রক্ষক। তিনি দেশবাসীকে হতাশ না হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই “বিদেশি পুতুল সরকারকে” উৎখাত করার আহ্বান জানান। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
ভাষণে ইউনূস প্রশাসনের কাছে শেখ হাসিনা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অবিলম্বে অবৈধ ইউনুস প্রশাসন অপসারণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে রাস্তায় হিংসা ও নৈরাজ্য বন্ধ করার কথা বলেন। সংখ্যালঘু, নারী এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন শেখ হাসিনা। সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করে বিচারব্যবস্থার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তিনি। পাশাপাশি গত এক বছরের ঘটনাবলি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আন্তর্জাতিক সমাজ আপনাদের পাশে রয়েছে। একসঙ্গে আমরা আওয়াজ তুলব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব।” নির্বাচনের মুখে তাঁর এই ভাষণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
