ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইজরায়েল সংঘাত সোমবার ২৪তম দিনে পৌঁছেছে। এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে আমেরিকাও। মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার জবাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
advertisement
‘গরম যত বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে!’ সমাধানের রাস্তা কী? লোকসভায় বললেন মোদি
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ায় মার্কিন প্রশাসন বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা বা ভ্রমণকারী মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে নিয়মিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আকাশপথ আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
মানুষের আগে বিপদ টের পায় কারা? আশপাশেই আছে…এই ৮ প্রাণীর বিশেষ ক্ষমতা জানেন?
এদিকে, প্রণালী অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ২০টিরও বেশি দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া-সহ একাধিক দেশের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, ইরান নিরস্ত্র জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে নিশানা করছে। একই সঙ্গে এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে।
সংঘর্ষের মাঝেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ইরান। এক ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি এবং গোয়েন্দা মন্ত্রী এসমাইল খতিব।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি দাবি করেছেন, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ১,৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় ১,৮৫০ ছুঁয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী—যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের পাঁচ দিনের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, খুব ভাল এবং ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে এবং যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব। তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ এর আগেই ওয়াশিংটন এবং তেহরান—দুই পক্ষই একে অপরকে অপরিবর্তনীয় ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে।
