সম্প্রতি বন্দিবিনিময়ের আওতায় রুশ বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন নাজার। সেই সেনাসদস্যের মা নাতালিয়া বলেছিলেন, ‘আমার আবেগ খুব তীব্র ছিল।’ তিনি এখনও ঘোরের মধ্যে আছেন। প্রথম সেই ফোনকল পাওয়ার পর পুরো পরিবারের যে আনন্দ, তা ভিডিওতে ধরা পড়েছে, যা দেখে যে কারও মন ছুঁয়ে যাবে।
নাতালিয়া তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি অক্ষত আছেন কি না। তিনি জানতে চান, ‘তোমার হাত-পা সব ঠিক আছে তো?’ তিনি বলেছেন, ‘আমার সোনা বাচ্চা, আমি কত দিন ধরে তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।’
advertisement
ভিডিওর শেষের অংশে নাজারের বোন রোকসোলানাকে আনন্দে চিৎকার করতে ও লাফাতে দেখা যায়। নাতালিয়া বলেন, ‘বিষয়টি ছিল বেশ অদ্ভুত। কারণ, আমার ছেলে নিহত হয়েছিলেন। আমি নিজে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ছিলাম। অথচ এখন তাঁর কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছি। একজন মায়ের সেই সময়ের অনুভূতিগুলো কী হতে পারে, আপনি কল্পনা করতে পারেন? আনন্দ! ভীষণ আনন্দ! আমি আমার চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলাম না।’
সমাধি থেকে নাজারের ফিরে আসার পুরো গল্প অকল্পনীয়। বিশেষ করে দেশ যখন যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যে, এমন সুসংবাদ ইউক্রেনীয়দের কাছে দারুণ খুশির। ২০২২ সালে যখন রাশিয়া পুরোমাত্রায় ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করে, ৪২ বছর বয়সী নাজার সরাসরি রণক্ষেত্রে চলে যান। তিনি ইতিমধ্যে ২০১৪ সালে যুদ্ধ করেছিলেন। তাই তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ। নাজারের বোন বলেন, তাঁর মনে কোনও দ্বিধা ছিল না। তিনি তৎক্ষণাৎ যুদ্ধে চলে যান।
কিন্তু যুদ্ধের প্রথম বছরে মে মাসেই রণাঙ্গনে নিখোঁজ হন নাজার। এরপর নাজারের মা রুশ ভাষায় কথা বলা এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। সেই ব্যক্তি বলেন, নাজারকে বন্দী করা হয়েছে, কিন্তু ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’। সেই রহস্যময় কণ্ঠটি নাজার কোথায় আছেন, কারা তাঁকে আটকে রেখেছে, কিংবা তিনি আহত কি না, সে সম্পর্কে কিছুই বলেনি। পরিবার বুঝে উঠতে পারছিল না, তাঁর কথাগুলো বিশ্বাস করবে কি না। আর সরকারিভাবেও নাজারের পরিবার কোনও খবর পাচ্ছিল না। নাজারের পরিবারের এমন অবস্থা এক বছর চলেছিল। পরে নাতালিয়াকে জানানো হয়েছিল, তাঁর দেওয়া ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের একটি মর্গে একটি মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।
