ফিলিপিনস-এর ওই ফুড ব্লগারের নাম এমা আমিট৷ গত ৪ ফেব্রুয়ারি পালাওয়ানের পুয়ের্তো প্রিন্সেসা-র ম্যানগ্রোভ অরণ্যে গিয়ে এমা এবং তাঁর বন্ধুরা বিষাক্ত কাঁকড়া শিকার করেন৷ এর পর নিজেই সেই নারকেলের দুধ দিয়ে সেই কাঁকড়া রান্নার ভিডিও করেন এমা৷ এর পর রান্না করা সেই কাঁকড়া খান তিনি৷ সেই ভিডিও ফেসবুক এবং টিকটক-এ পোস্টও করেন ওই ফুড ব্লগার৷
advertisement
কিন্তু ওই কাঁকড়া খাওয়ার পরের দিনই বিষক্রিয়ার জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এমা৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এমার গোটা শরীরে কাঁকড়ার বিষ ছড়িয়ে পড়ে৷ তাঁর ঠোঁট নীল হয়ে যায়৷ ঘন ঘন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছিলেন তিনি৷ দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়৷ কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করলেও ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় তাঁর৷
এমার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁর বমির ভিতরে ওই বিষাক্ত কাঁকড়ার গাঢ় নীল রংয়ের খোলসের টুকরো পান স্থানীয় আধিকারিকরা৷ এমারা যে গ্রামে থাকতেন, সেখানকার প্রধান লাড্ডি গেমাংও ওই মহিলা ফুড ব্লগারের মৃত্যুতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন৷ কারণ এমা এবং তাঁর স্বামী সমুদ্রের কাছেই থাকতেন, দীর্ঘদিন মাছ ধরার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের৷ কোন ধরনের মাছ এবং সামুদ্রিক প্রাণী থাওয়া বিপজ্জনক, সে সম্পর্কে খুব ভাল ভাবেই অবগত ছিলেন তাঁরা৷ তার পরেও এমা এমন ঝুঁকি কী করে নিয়ে, তা ভেবে পাচ্ছেন না গ্রামের প্রধান৷ এমার এই মর্মান্তিক পরিণতির পরেই এই ধরনের বিষাক্ত কাঁকড়া না খাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ফের সতর্ক করেছে প্রশাসন৷
বিষাক্ত এই কাঁকড়াগুলির শরীরে স্যাক্সিটক্সিন এবং টেটরোডোটক্সিনের মতো প্রাণঘাতী বিষ থাকে৷ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরনের কাঁকড়া দেখতে খুবই সুন্দর হলেও এগুলি খাওয়া বিপজ্জনক৷ এমন কি, রান্না করলেও এই ধরনের কাঁকড়ার বিষের প্রভাব নষ্ট হয় না৷ খাওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই শরীরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে অথবা মৃত্যুও হতে পারে৷
