নিউ ইয়র্ক: আমেরিকার বৃহত্তম শহরের মেয়র পদে শপথ গ্রহণ করলেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি৷ আগামী ৪ বছরের জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে তাঁরই হাতে৷ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসাবে পরিচিত মামদানি৷ আর ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও তিনি একেবারেই অপছন্দের পাত্র৷ যদিও গত বছর ট্রাম্প-মামদানির সাক্ষাৎ পর্ব দৃশ্যত যথেষ্ট ভালই মনে হয়েছিল৷ কিন্তু, মামদানির এই চার বছরের মেয়াদকালে এই দুই রাজনীতিকের মধ্যে যথেষ্ট টানাপড়েন চোখে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা৷
advertisement
৩১ ডিসেম্বরের পরে ঠিক মধ্যরাত পেরিয়ে পয়লায় যখন পা রাখছে নিউ ইয়র্ক, তখন সিটি হ’লের নীচে থাকে পুরনো সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে কোরানে হাত রেখে শপথ নেন নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানি৷
মামদানিকে তাঁর শপথ বাক্য পাঠ করান নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস৷ পুরনো সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে শহরের অন্যতম মূল স্টপেজ, যা তার খিলানযুক্ত সিলিং এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যের জন্য পরিচিত।
শপথগ্রহণের পড়ে ছোট্ট বক্তব্য রাখেন মীরা নায়ারের পুত্র৷ বলেন, ‘‘এই জায়গাটা আমাদের শহরের প্রাণবন্ততা, স্বাস্থ্য এবং ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে গণ পরিবহনের গুরুত্বের প্রমাণ৷’’ শপথগ্রহণের পরেই পরিবহন বিভাগের কমিশনার হিসাবে মাইক ফ্লিনকে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেন তিনি৷
শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার পাশাপাশি, মামদানি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি। ৩৪ বছর বয়সি মামদানি নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে কম বয়সি মেয়রও।
যদিও বৃহস্পতিবারও একটি রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসমক্ষে নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে শপথগ্রহণের কথা রয়েছে তাঁর৷ জানা গিয়েছে, এদিন স্থানীয় সময় ১ টা নাগাদ আমেরিকার বার্নি স্যান্ডারের পাশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে৷
মার্কিন রাজনীতিতে “affordability” অর্থাৎ, ‘সাশ্রয়ী মূল্য’কে একটি সবচেয়ে বেশি চর্চিত শব্দবন্ধ হিসাবে পরিচিতি দিয়েছেন এই মামদানি৷ এই ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্ট আশ্বাস দিয়েছেন, পৃথিবার অন্যতম দামী শহর নিউ ইয়র্কে থাকা হবে ‘পকেট ফ্রেন্ডলি’, ‘সাশ্রয়ী’ হবে গণ পরিবহন৷ বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বিনামূল্যে সরকারি চাইল্ড কেয়ার , সরকারি মুদির দোকানও রয়েছে মামদানির লিস্টে৷
মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং একজন শিক্ষাবিদ ও লেখক মাহমুদ মামদানির পুত্র। তাঁর যখন ৭ বছর বয়স, তাঁর পরিবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে চলে আসেন৷ ৯/১১-এর পরবর্তী সময়ে একজন মুসলিম নাগরিক হিসাবে নিউ ইয়র্কে তাঁর বেড়ে ওঠা সহজ ছিল না৷ ২০১৮ সালে একজন আমেরিকান নাগরিক হন।
