খ্রিস্টিয়ান স্টারডিভান্ট নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে উপাদানগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের বক্তব্য, সে ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল এবং একজন গোপন এফবিআই কর্মীকে—যিনি সহানুভূতিশীল পরিচিত সেজে ছিলেন—নিজের পরিকল্পনার কথা জানায়।
আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, স্টারডিভান্ট ছুরি ও ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, অনলাইন কথোপকথন এবং তার বাড়িতে তল্লাশির ফল মিলিয়ে পরিস্থিতিকে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ হিসেবে ধরা হয়।
advertisement
নববর্ষের আগেই অভিযুক্ত হামলা চালাতে পারে—এই আশঙ্কায় এফবিআই কয়েক দিন ধরে, এমনকি বড়দিনের দিনও, তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছিল বলে জানান উত্তর ক্যারোলিনার পশ্চিমাঞ্চলের মার্কিন অ্যাটর্নি রাস ফার্গুসন।
শার্লটে সাংবাদিকদের ফার্গুসন বলেন, “অভিযুক্ত অস্ত্র নিয়ে বাড়ি ছাড়লে তার আগেই গ্রেফতারের প্রস্তুতি ছিল। কোনও সময়েই সাধারণ মানুষ বিপদের মুখে পড়েনি।”
বুধবার স্টারডিভান্টকে গ্রেফতার করা হয় এবং শুক্রবার ফেডারাল আদালতে হাজিরার পরও সে হেফাজতেই ছিল। তার আইনজীবী মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি। আগামী ৭ জানুয়ারি আরেকটি শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, স্টারডিভান্টের ফোন ও বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে একটি হাতে-লেখা ‘ম্যানিফেস্টো’ ছিল, যেখানে তার পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ জেমস বার্নাকল জানান, অভিযুক্ত হামলার সময় মরতে প্রস্তুত ছিল।
বার্নাকল বলেন, “সে নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিল।”
এফবিআইয়ের হলফনামা অনুযায়ী, বাড়ির আবর্জনার ঝুড়ি থেকে উদ্ধার করা একটি হাতে-লেখা নোটে স্পষ্টভাবে গণছুরিকাঘাতের উদ্দেশ্য লেখা ছিল। নোটে বলা ছিল, “যত বেশি সম্ভব সাধারণ নাগরিককে ছুরি মারা,” সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং হামলার পর পুলিশকে আক্রমণ করে মারা যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। তদন্তকারীরা জানান, সিরিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হামলা ও বিমানহানার প্রতিশোধ হিসেবেই এই সহিংসতার ছক কষা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানায়, শার্লটের উপকণ্ঠে মিন্ট হিলে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। ডেটাবেস যাচাইয়ে দেখা যায়, স্টারডিভান্ট ওই এলাকায় একটি বার্গার কিং-এ কাজ করত। তবে চলমান তদন্তের কথা বলে নোটে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে সেটির নাম ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে অস্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা।
দোষী সাব্যস্ত হলে স্টারডিভান্টের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
হলফনামায় বলা হয়েছে, গত মাসে তদন্ত শুরু হয়, যখন কর্তৃপক্ষ স্টারডিভান্টকে একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করে, যেখানে আইএস সমর্থনমূলক ও সহিংসতা উসকে দেওয়া বিষয়বস্তু পোস্ট করা হচ্ছিল। ওই অ্যাকাউন্টে চরমপন্থী সংগঠনের প্রাক্তন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির উল্লেখও ছিল।
এফবিআই জানায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে—যখন স্টারডিভান্ট নাবালক ছিল—ইউরোপে এক সন্দেহভাজন আইএস সমর্থকের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে সে তাদের নজরে আসে। সে সময়ও সে হামলার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ, তবে পরিবারের এক সদস্য তাকে থামান। পরে সে মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা নেয় এবং কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল, তার আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশাধিকার নেই।
ফেডারাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে তারা জানতে পারে যে স্টারডিভান্ট আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফিরে এসেছে।
