গত মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটরদের জন্য আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই হিসাব দেওয়া হয়। তবে এটি যুদ্ধের মোট খরচ নয়। সংঘাত নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য আইনপ্রণেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এই প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
আরও পড়ুন: ইরানের মেয়েদের স্কুলে হামলায় ১৭৫ শিশু, এই হামলা আসলে চালিয়েছিল কে জানেন! বিরাট রহস্য ফাঁস
advertisement
কংগ্রেসের কয়েকজন সহকারী জানিয়েছেন, যুদ্ধের বাড়তি খরচ মেটাতে হোয়াইট হাউস দ্রুতই কংগ্রেসের কাছে নতুন তহবিলের আবেদন জানাতে পারে। কিছু কর্মকর্তার মতে, এই আবেদনের পরিমাণ হতে পারে ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) ডলার। তবে অনেকে মনে করছেন, যুদ্ধের প্রকৃত খরচ এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
যুদ্ধের সম্ভাব্য স্থায়িত্ব বা ব্যয়ের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও জনসমক্ষে কোনও স্পষ্ট ধারণা দেয়নি। কেন্টাকি সফরের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।’ তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা এই লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও আমেরিকা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আগ্রাসন শুরু করে। দুই দেশের বিমান হামলায় এই পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশির ভাগই ইরানি ও লেবানিজ। সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব জ্বালানিবাজার ও পরিবহনব্যবস্থায় চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, হামলার প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫৬০ কোটি (৫.৬ বিলিয়ন) ডলারের গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
কংগ্রেস সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই যুদ্ধ আমেরিকার সামরিক মজুত কমিয়ে দিচ্ছে। এমন এক সময়ে এই সংকট তৈরি হল, যখন মার্কিন প্রতিরক্ষাশিল্প আগে থেকেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল। দ্রুত সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি মেটাতে গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাতটি বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী হবে এবং লড়াই থামার পর ইরান নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা কী, সে বিষয়েও তাঁরা জবাবদিহি চেয়েছেন।
