মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশের জন্য আত্মবলিদান দিতে প্রস্তুত রয়েছেন ১৪ মিলিয়নেরও বেশি ইরানি নাগরিক। স্ট্রেট অব হরমুজে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে আমেরিকার চাপ এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির মধ্যেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
ইস্তানবুলে ইজরায়েল কনস্যুলেটের কাছে আচমকা গুলিবর্ষণ! ৩ বন্দুকধারী নিহত, জখম ২ পুলিশকর্মী
advertisement
পেজেশকিয়ান বলেন, “১৪ মিলিয়নেরও বেশি ইরানি নাগরিক তাঁদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। আমিও ছিলাম, আছি এবং থাকব—ইরানের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত।”
উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, ইরানকে স্ট্রেট অব হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় ব্যাপক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে ডেডলাইন ঘনিয়ে এলেও ইরানের তরফে কোনও নরম অবস্থান দেখা যায়নি। বরং সম্ভাব্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার আশঙ্কায় বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চারপাশে যুবকদের মানবঢাল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। ইরানের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। শিরাজে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা-সহ একাধিক স্থানে আঘাত হানা হয়েছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় হতাহতের খবরও মিলেছে।
অন্যদিকে, ইজরায়েল পারস্য ভাষায় সতর্কবার্তা জারি করে সাধারণ মানুষকে ট্রেন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে, যা রেল পরিকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই সংঘাত ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরান সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে বলে খবর, যদিও অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ শক্তি পরিকাঠামোর কাছে পড়ে বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতির জেরে সৌদি আরব বাহরিনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক মহল সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জ্বালানি ও সাধারণ নাগরিকদের পরিকাঠামোয় হামলা চলতে থাকলে বৃহত্তর সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে এবং বিশ্ববাজারেও তার প্রভাব পড়বে।
আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দ্রুত বাড়তে থাকা এই উত্তেজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো কঠিন হয়ে উঠছে।
