ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভেও সাইরেন বাজানো হয়, কারণ ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কথা জানায়। ইজরায়েলের সেনাবাহিনী (IDF) এক বিবৃতিতে জানায়, সারা দেশে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। জনসাধারণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান হয়েছে। দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
advertisement
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়েছে তেহরান৷ সংবাদসংস্থা রয়টার্স অনুযায়ী, দুবাইতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে৷ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবু ধাবি-তেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুই বাসিন্দা সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানান, তারা জোরাল বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছেন। কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে খবর। দোহা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। একইভাবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধেও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এএফপি ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘‘বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করেছে।’ তাঁর দাবি, ইরানে শাসন পরিবর্তন আসন্ন এবং ইরানের জনগণকে তাদের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রকাশিত ভোটার তালিকা, গোটা বাংলায় কত লাখ নাম বাদ গেল জানেন! কারা তাঁরা? জানুন
আমেরিকা ইরানে চালান সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে এপিক ফিউরি (Epic Fury)৷ ইজরায়েল অভিযানের নাম দিয়েছে, ‘লায়ন রোর-রোর অফ দ্য লায়ন’৷ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে এই সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, ইরানের কথিত ‘অস্তিত্ব সংকটজনক’ পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলার জন্য এই পদক্ষেপ যৌথভাবে এই সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে, ইজরায়েলে থাকা জরুরি নয়, নিজেদের এমন সরকারি কর্মীদের দেশে ফেরার অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকা। ইরানে হামলার হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে শুক্রবার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। যুদ্ধ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার এক দিন পরই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিল। শুরুতে এই আলোচনা ঘিরে কিছুটা আশা ছিল। তবে তেহরান স্পষ্ট জানায়, কোনও চুক্তি করতে হলে আমেরিকাকে তাদের ‘অতিরিক্ত দাবি’ থেকে সরে আসতে হবে।
