এর মধ্যেই সংঘাত আরও জটিল আকার নেয় সৌদি আরবে। প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা জখম হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হামলা ঘিরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেছেন, মার্কিন সেনা ইরানকে “ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে” এবং ইরানের নেতারা যুদ্ধ থামাতে চুক্তির জন্য “অনুরোধ করছে”। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার সময়সীমা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে, কারণ তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
advertisement
‘ধন্যবাদ ভারতবাসী’ ইরানের মিসাইলে কেন লেখা? ইজরায়েলের ওপর ৮৩তম দফার হামলা তেহরানের
অন্যদিকে, ইজরায়েল জানিয়েছে তারা ইরানের আরাকের হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্স এবং ইয়াজদ প্রদেশের আর্দাকান ইয়েলোকেক উৎপাদন কেন্দ্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা অবশ্য দাবি করেছে, এই হামলায় কোনও প্রাণহানি হয়নি এবং তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকিও তৈরি হয়নি।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ থামাতে চুক্তির জন্য আগ্রহী। যদিও তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনও আলোচনায় বসেনি এবং এই দাবি ভিত্তিহীন। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার সময়সীমা তিনি আপাতত পিছিয়ে দিয়েছেন।
চলতে থাকা এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মন্দার আশঙ্কা বাড়ছে।
এর জবাবে ইরান একাধিক দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেল আভিভ-সহ ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায়। তেল আভিভে এই হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছে ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম।
অন্যদিকে, সৌদি আরব-এর প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে ইরানের হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা জখম হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তেল ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মন্দার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। যদিও ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কোনও ধরনের আলোচনায় বসেনি এবং মার্কিন প্রশাসনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
