চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’। সেই বার্তার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ধীরে ধীরে কিন্তু স্পষ্টভাবে মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে আমেরিকা আগেও দেখিয়েছে, তারা ইরানে আঘাত হানতে সক্ষম। গত বছরের জুনে চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এতে অংশ নেয় ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান। আমেরিকা থেকে সরাসরি উড়ে গিয়ে বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো ব্যবহার করে ‘বাংকার-বাস্টার’ নিখুঁত বোমাও ফেলা হয়।
advertisement
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট সেই আশঙ্কাই জোরালো করছে। তিনি ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে চুক্তি না করলে ‘পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ’। তিনি আরও বলেন, একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে এগোচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আমেরিকা ‘ক্ষিপ্রতা ও শক্তির সঙ্গে’ অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
এছাড়া ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার সেনা কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। পাশাপাশি জর্ডন, সৌদি আরব, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আমেরিকা সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে। রবিবার তোলা আল-উদেইদ ঘাঁটির ছবিতে দেখা যায়, ঘাঁটির প্রান্তে নতুন স্থাপনা তৈরি হয়েছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আমেরিকায় হামলার পর তেহরান ওই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এবার সেখানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর অবশ্য এসব সামরিক গতিবিধির বিস্তারিত তথ্য কখনই জানায় না। তবে জানা গিয়েছে, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার সেখানে পৌঁছেছে। ড্রোন ও পি-৮ পোসেইডন নজরদারি বিমান ইরানের আকাশসীমার কাছাকাছি এলাকায় দেখা গেছে।
