প্রায় দুই বছর ধরে গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান চলছে। গত বছর অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেখানে ইজরায়েলের হামলা থামেনি। ইজরায়েল গাজায় এখনও ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে গাজার বাসিন্দাদের মাসের পর মাস তীব্র অনাহারে কাটাতে হচ্ছে। এতে তাদের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, সাধারণ অসুস্থতা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
advertisement
ইমান কালুব নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘মরিয়মের আগে কোনও শারীরিক জটিলতা বা অসুস্থতা ছিল না। মারা যাওয়ার আগে ওর প্রচণ্ড কাশি, বমি ভাব এবং অনেক জ্বর হয়েছিল। সে খাবার খাওয়াদাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল।’ এই নারী আরও বলেন, ‘গাজায় অনেক মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা ভেবেছিলাম, হয়ত তার সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা কখনও কল্পনাও করিনি, সে এভাবে শেষ হয়ে যাবে।’ কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি রূপান্তরিত (মিউটেড) ভাইরাস গাজাজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনও ভাইরাসটি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। এ জন্য তারা পরীক্ষার সীমিত সুযোগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের গুরুতর ঘাটতির কথা বলেছেন। স্থানীয়রা ভাইরাসের অপ্রত্যাশিত প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছেন। ৮ বছর বয়সী মরিয়মকে ১১ জানুয়ারি রানতিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতাল একসময় গাজায় কিডনির রোগ ও ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র ছিল।
ইজরায়েলি বাহিনী গাজার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে বারবার আঘাত হেনে এটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে রানতিসি হাসপাতালটি শ্বাসনালি ও অন্ত্রসংক্রান্ত সংক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রক হাসপাতালটি মেরামত এবং পরিষেবা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও হাসপাতালটিকে ব্যাপক চাপ সামলাতে হচ্ছে।
প্রচণ্ড কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত মরিয়মের শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করলে তার মা তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন। ইমান কালুব বলেন, হাসপাতালে আসা অসুস্থ শিশুর সংখ্যা এত বেশি ছিল যে তাকে একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানোর জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, মরিয়মের ফুসফুসের অবস্থা খুবই গুরুতর। তাকে চিকিৎসা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ইমান কালুব আরও বলেন, ‘তাঁরা শুধু তাকে অক্সিজেন দিতে পেরেছিল। তাকে এমনকি স্যালাইন পর্যন্ত দিতে পারেনি। হয়ত তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, তাকে আর বাঁচানো যাবে না।’
